নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের ফের মানববন্ধন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম

নানাবিধ আর্থিক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদের পদত্যাগের দাবিতে ফের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক আমজাদ হোসেন, সৌরভ হোসেন, নিজাম উদ্দিন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত নাহিয়ান, মাইনুল হোসেনাইন ও সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়ের আশেপাশের অধিকাংশ পরিবারগুলো নিতান্ত গরিব ও দিনমজুর শ্রেণির। তাই শহরের নামিদামি স্কুল গুলোতে এ পরিবারগুলোর সন্তানদের ভর্তির সুযোগ না হওয়ায়, এই স্কুলই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ শিক্ষার্থী ভর্তিতে নীতিমালা বহির্ভূত অধিক টাকা আদায় করে। এ ছাড়া তার মতের অমিল হলেই সহকারী নারী শিক্ষকদের হেনস্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে। রশিদ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অভিযোগও করে তারা।

এ ছাড়া উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক লেখা পড়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এসব শিক্ষার্থীদের কারো কাছ থেকে তিন মাস, কারো কাছ থেকে ছয় মাসের বেতন আদায়র অভিযোগও করে তারা। তাদের দাবি অফিস সহকারী ইখতিয়ার এর সহযোগীতায় নিজের মতো করে স্কুলের বিভিন্ন ফান্ড থেকে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ। তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ অফিসগুলোর কতিপয় কর্মচারীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অভিযোগগুলো তার ব্যক্তিগত ওয়াটসঅ্যাপে নিয়ে পরবর্তীতে অভিযোগকারী অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিকস্থানে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আন্দোলনে নেমেছে বলে দাবি করে তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসেছে। তাদের লিখিতভাবে অভিযোগগুলো দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত