কিরগিজস্তান থেকে দেশে ফিরছেন ১৮০ বাংলাদেশি

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম

গার্মেন্টস ও নির্মাণ খাতে ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাসে কিরগিজস্তান গিয়েছিলেন বহু বাংলাদেশি। কিন্তু কাজ না পাওয়া, বেতন বঞ্চনা, এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮০ জন নাগরিক ফিরলেন দেশে। 

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বিশেষ এক ফ্লাইটে তাঁরা বিশকেক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ফেরত আসা এসব মানুষকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁদের নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ‘বিদেশে বেশি বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, বেতনও পাননি। নথিপত্রহীন হয়ে পড়েন অনেকে। কেউ কেউ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণও আদায় করা হয়েছে।’

লালমনিরহাটের আদিতমারীর বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৪৫) এর মধ্যে একজন। ওয়েল্ডিংয়ের কাজের আশায় তিনি ২০২৪ সালের ৩ জুন বিশকেক পৌঁছান। কিন্তু পৌঁছানোর পরদিনই তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নানা জায়গায় কাজ করলেও টানা সাত মাস বেতন পাননি। অবশেষে কিরগিজ পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে তিন মাস জেল খেটে বিশেষ বিমানে দেশে ফিরেছেন।

শরীয়তপুরের সখীপুরের যুবক প্রিন্স মিয়া (২১) দালালের প্রতারণায় আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। তাঁকে প্রথমে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এ বছরের ১৯ মে বিশকেক পাঠানো হয় এই আশ্বাসে যে কিছু দিন পর সেখান থেকে ইতালি পাঠানো হবে। দালালের হাতে গচ্ছিত দেন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কিরগিজ পুলিশ আটক করে ৪৪ দিন জেলে থাকতে হয়।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের মিলন আলী (৩৮) জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। টানা চার মাস বেতন না পেয়ে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তিনি তিন মাসেরও বেশি সময় কাটান কারাগারে। মিলন অভিযোগ করেন, তাঁদের দিনের পর দিন তীব্র রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, যা ছিল ভয়াবহ নির্যাতন।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার থেকে ৩৫ হাজারের বেশি বিদেশফেরত প্রবাসীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ জন প্রবাসীকে।

মানবপাচারবিরোধী কাজে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া আল-আমিন নয়ন (টিআইপি হিরো–২০২৪) এবং মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একদল কর্মী এ কাজে যুক্ত আছেন। বিদেশে বিপদে পড়া যে কেউ চাইলে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে তাঁদের সহায়তা ও পুনর্বাসনে কাজ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত