গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গণপিটুনিতে মোজাম্মেল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মোজাম্মেল উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং সিরাজউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে দক্ষিণগাঁও গ্রামের মতিউর রহমানের বাড়ি থেকে কয়েকটি হাড়ি-পাতিল ও আসবাবপত্র চুরি করে বস্তায় ভরছিলেন মোজাম্মেল। সন্দেহজনকভাবে জিনিসপত্র বহন করতে দেখে স্থানীয়রা প্রশ্ন করলে তিনি অসংলগ্ন জবাব দেন। পরে বস্তা খুলে ভেতরে চুরি হওয়া মালামাল পাওয়া গেলে গ্রামবাসী তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে বিকেলে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
সনমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য তৌহিদুজ্জামান সরকার তপন জানান, নিহত মোজাম্মেল এক সময় জেলা পরিষদের ডাক বাংলোয় চাকরি করতেন। তবে চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাদকের টাকার জন্য মাঝেমধ্যেই এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটাতেন। এ বিষয়ে কিছুদিন আগে তাঁর পরিবার তাঁর কাছে পরামর্শ চাইতে এসেছিল।
স্থানীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক বলেন, মোজাম্মেল এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে মাদক কারবারিদের সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মোজাম্মেলের বড় ছেলে ফাহাদ প্রধান অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোজাম্মেলের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১৭/১৪.৯.২৫) দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চন্দনাইশে শঙ্খ নদী থেকে পাহাড়ি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু 