গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল বিষয়টি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি জানতেন- এমন অভিযোগ এনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
তিনি বলেন, যদি কেউ ভেবে থাকে অধিকার পরিষদের ওপর হামলা করে রক্ত ঝরিয়ে বেঁচে যাবে তাহলে তা ভুল ভাবছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন মোড়ে জুলাই মঞ্চের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জনতার সমাবেশে’ তিনি এ আল্টিমেটাম দেন।
সমাবেশ থেকে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গত ২৯ আগস্ট নুরুল হক নুরের ওপর যৌথ বাহিনীর হামলার বিচার, লন্ডনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জবাবদিহিতা এবং শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
রাশেদ খান বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক নুরকে এভাবে নৃশংসভাবে আহত হতে হবে তা আমরা কেউ কল্পনা করিনি। দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও শিক্ষাখাত ও ছাত্র রাজনীতির কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি ভেঙে জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে আরেকটা ১/১১ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। যদিও আমাদের প্রত্যাশার শতভাগ পূরণ হয়নি, তবুও অন্তত গুম হওয়া বন্ধ হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু কমেছে, আমরা স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারছি।
সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন। শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, দেড় বছর পার হয়ে গেলেও আমি আমার স্বামীর লাশ পর্যন্ত দাফন করতে পারিনি। আমার সন্তানরা বড় হয়ে কীভাবে তাদের বাবার কবর জিয়ারত করবে?
শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কি করছে ইউনুস সরকার? এখনো শহীদদের তালিকা গেজেটভুক্ত করা হয়নি, পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমাদের সন্তানেরা কি বারবার রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রাণ দেবে?
এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, মেজর বজলুল হুদার ভাই ডিইক হুদা, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামানসহ জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
