কয়েক দফায় সময়সীমা পিছিয়ে এ বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করবে বলা হলেও সেটি হচ্ছে না। কারণ নিরাপত্তাসূচক প্রায় ১ হাজার ৭০০টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ৯০০টিই সম্পন্ন হয়নি। এতে প্রকল্পের মূল ব্যয় না বাড়লেও জনবল এবং অন্যান্য খাতে ব্যয়সংক্রান্ত লোকসান বাড়ছে। আবার সময়মতো বিদ্যুতের উৎপাদন না হওয়ায় কাক্সিক্ষত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
পরে করার আশ^াস দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ন অনেক পরীক্ষা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নানা কারণে। কারিগরি সমাধানের নামে নিম্নমানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও নির্মাণকাজের ধারাবাহিকতাও রক্ষা না করারও অভিযোগ উঠেছে রূপপুরে।
মোটকথা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি দফায় দফায় সময়সীমা পিছিয়ে এ বছর প্রথম ইউনিট চালু করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। যথাযথ নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করে কেন্দ্রটি চালু করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আইএইএ’র পরামর্শ মোতাবেক যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং কমিশনের অনুমোদন পেলে জ¦ালানি লোড করা হবে। তার আগে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে না।
অসম্পন্ন পরীক্ষা, জোড়াতালির অভিযোগ : পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জরুরি পরীক্ষাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক. নন নিউক্লিয়ার টেস্ট, যেটি করা হয় ফুয়েল লোডিংয়ের আগে এবং দুই. নিউক্লিয়ার টেস্ট, যা করা হয় ফুয়েল লোডিংয়ের পরে। রূপপুরে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নন নিউক্লিয়ার টেস্ট করা দরকার। করা হয়েছে ৭৫০টির মতো। প্রকল্পটিতে কারিগরি সমাধান বা বিকল্প উপায়ের নামে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ‘টেকনিক্যাল সলিউশন’ দেওয়া হয়েছে, যার ব্যাপারে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরে ইউরেনিয়ামের ফিশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তখন প্রাইমারি সার্কিটের পানির তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। তাতে সেকেন্ডারি সার্কিটের পানি বাষ্পে পরিণত হয়। এ বাষ্প দিয়েই টারবাইন ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ফলে প্রাইমারি সার্কিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সার্কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য প্রায় ২৪.৫ মেগাপ্যাসকেল চাপে হাইড্রোস্ট্যাটিক টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার আগে সার্কিটের সব যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে স্থাপন বাধ্যতামূলক। রূপপুরে সেইফটি ভালভ না বসিয়েই পরীক্ষা করার অভিযোগ রয়েছে। আমেরিকায় ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ থ্রি মাইল আইল্যান্ড পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তার মূল কারণ ছিল প্রাইমারি সার্কিটের সেফটি ভালভের ত্রুটি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেজস্ক্রীয় বিকিরণ প্রতিরোধক তার ব্যবহার করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পের মূল ডিজাইনে বৈদ্যুতিক তারের একটি নির্দিষ্ট মান ঠিক করা থাকে। নিয়ম অনুযায়ী সেটিই দিতে হবে। কোনো কারণে না পাওয়া গেলে ডিজাইনারকে জানাতে হবে। রূপপুর প্রকল্পে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।’ আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ অন্তত ৬০ বছর। এটা বিবেচনা করেই যন্ত্রপাতি ও উপকরণ স্থাপন করতে হবে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়। রূপপুরের সরঞ্জাম ও উপকরণাদি বিশেষভাবে তৈরি। কিন্তু সেখানে নকশাবহির্ভূত এমনকি স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কখনো দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ধার করে প্রথম ইউনিটে বসিয়ে অস্থায়ীভাবে পরীক্ষার কাজ করা হয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে, এ পরীক্ষার দরকার নেই বা পরে করা হবে। পরে আর সেটি হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘মাটির নিচে একটি পাইপের মান পরীক্ষা মাটি ভরাটের আগেই করা দরকার। পাইপটি মাটি দিয়ে ভরাট করার পর আর পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।’
অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বৈদ্যুতিক কেবল, ভালভ, পাম্প এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের ক্ষেত্রে, যা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রকল্পটিতে জরুরি অবস্থায় ১০.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করার কথা, কিন্তু মূল ডিজাইনের বাইরে গিয়ে অস্থায়ীভাবে স্থানীয় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছে। মেকানিক্যাল ড্রাফট কুলিং টাওয়ারের ফ্যানগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে এসব বৈদ্যুতিক তার। এগুলোর মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি প্রাইমারি সার্কিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রিঅ্যাক্টর কুলেন্ট পাম্পের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে গিয়ে এর মোটরটি নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ওই পাম্পের ডিজাইন লাইফ ৬০ বছর। গত ২৭ আগস্টের ইস্যুকৃত এক টেকনিক্যাল সলিউশনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের ১ নম্বর পাম্প থেকে মোটর খুলে নিয়ে প্রথম ইউনিটের ৩ নম্বর পাম্পে লাগানো হয়েছে। কারিগরি সমাধানের বিষয়টি আইএইএ’র বিশেষজ্ঞ দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। টেকনিক্যাল সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সময়সীমা পার হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধানটি প্রত্যাখ্যান করে। সম্প্রতি সময়সীমা নির্দিষ্ট করার পরিবর্তে মাইলস্টোন আকারে নির্ধারণ করা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের আগে গত মাস পর্যন্ত ১২টি টেকনিক্যাল সমাধান পর্যালোচনাধীন ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রটির রিঅ্যাক্টরের সেফটি সিস্টেমের কোনো পরীক্ষা হয়নি। জরুরি অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৫ সেকেন্ড পরেই যে সেফটি সিস্টেমগুলো চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর পরীক্ষাও করা হয়নি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখনো বাকি।
এ বছরও মিলবে না বিদ্যুৎ : কেন্দ্রটিতে ২০২২ সালে জ¦ালানি লোডিংয়ের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে করার কথা বলা হয়। পরে আরেক দফা সময়সীমা পিছিয়ে এ বছর জ¦ালানি লোডিংয়ের কথা বলা হলেও বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, সব পরীক্ষা শেষ করে মান নিশ্চিত করে তবেই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ¦ালানি লোড করতে হবে। পরীক্ষাগুলো যথাযথভাবে শেষ করতে হলে এ বছরও সম্ভব হবে না। যদিও রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বলেছে, প্রথম ইউনিটের সব কাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা নভেম্বরে শেষ হবে। কিন্তু কর্মকর্তারা এতে আশ^স্ত হতে পারছেন না।
গত ১০ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ টিম (প্রি-ওসার্ট)। বেশ কিছু অসংগতি তুলে ধরে নানা সুপারিশ ও পরামর্শ সংবলিত একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশকে দিয়েছে ওই বিশেষজ্ঞ দল। বাংলাদেশের মতামত পাওয়ার তিন মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে আইএইএ। এরপর চূড়ান্ত ওসার্ট মিশন পাঠাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। সবকিছু ঠিক থাকলে কেন্দ্রটি তখন পারমাণবিক জ¦ালানি লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত হবে। পুরো প্রক্রিয়া এ বছরে শেষ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন একাধিক কর্মকর্তা।
জ্বালানি লোড করার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে লাগবে প্রায় ৯০ দিন। জ্বালানি লোড করার পর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে প্রায় ১০ মাস লাগে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ২০২৭ সালে হতে পারে।
কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করার অভিযোগ : প্রতিটি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ ও মান পরীক্ষার একটা ধারাবাহিকতা থাকে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়ম অনুযায়ী, স্টেজে বা ‘প্রি-কমিশনিং কাজ’ শুরু হওয়ার কথা ছিল উপপর্যায় এ-০ দিয়ে, এরপর ধাপে ধাপে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও ট্রায়াল রান (এ-১) সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনিং কমিটি প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫৫টি ইনস্টলেশন প্যাকেজকে পরের ধাপগুলোতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে নির্মাণ, কমিশনিং ও অপারেশনাল কার্যক্রম একসঙ্গে চলছে, যা বিভিন্ন কাজের সমন্বয় ও সংযোগকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করে আইএইএ’র পর্যবেক্ষক দল। তারা বলেছে, এখনো যন্ত্রপাতি বসানো হয়নি, সেগুলোর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়নি; এ-সংক্রান্ত শিডিউল অনেক আগেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, যা মূলত প্রস্তুতিমূলক ধাপ এ-০-তে চালুর কথা থাকলেও চার ধাপ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ধাপে ধাপে সাজানো এ কর্মসূচিতে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক সময়সূচি দেওয়া হয়নি যে, কখন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও এর সঙ্গে যুক্ত আই অ্যান্ড সি সাব-সিস্টেমগুলোর পুরোপুরি সচল হতে হবে।
নির্মাণ কাজে অসংগতি : ফুয়েল স্টোরেজ বিল্ডিং ২০২৩ সালে হস্তান্তর করা হলেও সেখানে বেশ কিছু বিষয়ে অসংগতি পেয়েছে আইএইএ’র প্রতিনিধিদল। যেমন, ফায়ার ডোর বা অগ্নিনিরোধক দরজাগুলোতে স্পষ্ট ও মানসম্মত লেবেলিং না থাকা। অসম্পূর্ণ ফায়ার পেনিট্রেশনের কারণে আগুন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় আগুন বা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব অসংগতি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করেছে আইএইএ। সংস্থাটি বলেছে, ইমার্জেন্সি রেসপন্স ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। সব জরুরি সুবিধা সমর্থনকারী ডিজেল জেনারেটর, ফিল্টারযুক্ত ভেন্টিলেশন সিস্টেম, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনো নির্মাণাধীন। প্ল্যান্ট বা জরুরি কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এখনো ব্যবস্থা করা যায়নি। প্ল্যান্টের জরুরি অন-কল ডিউটি সংস্থা ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স হিসেবে কাজ করতে সক্ষম নয়। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জনসাধারণ ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন, পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ, তদন্ত, সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি প্রামাণ্য কর্মসূচি ছিল। এটির সব দিক ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, সংশোধনমূলক পদক্ষেপগুলোও অকার্যকর। অপারেটিং অভিজ্ঞতার প্রবণতা বিবেচনা করাও একই ধরনের সব ঘটনার শনাক্তকরণে কার্যকর হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও তা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার যে কর্মসূচি ছিল, তাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ দলটি বলেছে, পর্যাপ্ত রিপোর্টিং, স্ক্রিনিং, তদন্ত ও সুস্পষ্ট সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নির্ধারণের ব্যবস্থা না থাকলে নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য আগে অর্জিত শিক্ষাগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ নষ্ট হবে এবং অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনার অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বলা হয়েছে, জ¦ালানি লোডের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামগ্রিক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়নি। এ-সংক্রান্ত যেসব নথিপত্র দরকার, তাও অসম্পূর্ণ। এতে কমিশনিং কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেনকে গত বুধবার একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
কেন্দ্রটির নির্মাণ শেষে পরিচালনা করবে রাষ্ট্রায়ত্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান। এটি যাতে শতভাগ নিরাপদ হয়, সেজন্য পরামর্শ নিতেই আইএইএ’র প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের পরামর্শ মোতাবেক যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং কমিশনের অনুমোদন পেলে জ¦ালানি লোড করা হবে। তার আগে এ কেন্দ্র পরিচালনা করা হবে না। প্রি-ওসার্ট মিশনের পর ফাইনাল ওসার্ট মিশন হবে। সুতরাং প্রি-ওসার্ট মিশনের পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।’
‘বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এমন কিছু পরীক্ষা রয়েছে, যেগুলো দুই-তিন ঘণ্টা লাগে। ফলে এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আর প্রি-ওসার্ট মিশনের পর্যবেক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। তাছাড়া অন্য দেশের প্রি-ওসার্ট মিশনের প্রতিবেদনের চেয়ে বাংলাদেশের জন্য যে প্রতিবেদন আইএইএ দিয়েছে, তা অনেক ভালো’ যোগ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রি-ওসার্ট মিশনের প্রতিবেদনে রূপপুর প্রকল্পে ভয়াবহ অসংগতির কথা বলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য চরম হুমকি। তাদের পরামর্শগুলো দ্রুত আমলে নেওয়া দরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সচেতনতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তার খেসারত আমাদেরই দিতে হবে। স্পর্শকাতর প্রকল্প নিয়ে ছেলেখেলার সুযোগ নেই।’