অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ১০ দিনের সময় দিল আসাম সরকার

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০১ পিএম

বিদেশি সন্দেহে কাউকে শনাক্ত করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ দিতে হবে। অনুপ্রবেশ রোধে নতুন এই নিয়মে সায় দিয়েছে আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজেই জানিয়েছেন, কেউ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এতদিন আসামে বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত করার দায়িত্বে ছিল ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। আসামের বিজেপি সরকার এবার সেই দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের হাতে তুলে দিয়েছে। নতুন বিধি অনুসারে, বিদেশি সন্দেহে কাউকে আটক করা হলে নাগরিকত্বের কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কাছেই জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট হলেই কেবল ব্যক্তিটি রক্ষা পাবেন। অন্যথায় জেলা প্রশাসকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, আসাম সরকারের নতুন বিধির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা হ্রাস করা হলো। তবে বিধিতে এও উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিষয়ে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে কেবল তখনই বিষয়টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

গত জুন মাসে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার ১৯৫০ সালের অনুপ্রবেশ আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট আসামে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে যে রায় দিয়েছিল, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই রায় অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে যারা আসামে প্রবেশ করেছেন, তাদেরই কেবল অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। সে অনুসারেই মঙ্গলবার আসামের মন্ত্রিসভা অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণের নতুন বিধি অনুমোদন দেয়।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, কোনো জেলা প্রশাসক যদি জানতে পারেন যে তাঁর জেলায় কোনো বিদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাহলে ওই ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হবে। তাকে ১০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা করতে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশনা জারি করবেন। এরপর তাকে বন্দি শিবিরে স্থানান্তরিত করা হবে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়েছিল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। তখন বলা হয়েছিল, এখন থেকে ট্রাইব্যুনালগুলি সরাসরি সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের বন্দি শিবিরে পাঠানোর আদেশ দিতে পারবে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মূল দায়িত্ব হলো অনুপ্রবেশকারী বা বিদেশি শনাক্ত করা। তাদের গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণের ক্ষমতা ছিল পুলিশ ও প্রশাসনের। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা থাকলে এবং তিনি যদি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হন, তাহলে ট্রাইব্যুনাল সরাসরি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে।

আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। বহু ক্ষেত্রে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের হাতে নোটিস পৌঁছায় না অথবা আইনজীবীদের অবহেলায় তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন একতরফাভাবে তাদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়। দরিদ্র ও নিরক্ষর পরিবারগুলির ক্ষেত্রে প্রায়শই পুরনো সরকারি নথিতে নামের বানান, বয়স ও ঠিকানায় গড়মিল দেখা দেয়। এসব সামান্য ত্রুটির কারণেও নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে আসাম মন্ত্রিসভার নতুন সিদ্ধান্তে বাঙালি ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের হয়রানি আরও বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত