চীনের একটি গবেষণা দল দাবি করেছে, তারা এমন একটি ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম তৈরি করেছে যা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষকরা বলছেন, প্রোটোটাইপটি ইতোমধ্যেই পিপলস লিবারেশন আর্মিতে (পিএলএ) মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি একাধিক ডোমেইনের সেন্সর ডেটা একত্র করে একসাথে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
এই দাবি সামনে এলো এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ব্যয় আনুমানিক ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত স্থাপত্য এখনও প্রকাশ পায়নি। আর বাজেট দপ্তর বলছে খরচ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে চীনের সম্ভাব্য অগ্রগতি ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে তাদের এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলছে—বিশেষত তাইওয়ানের মতো এশিয়া-প্যাসিফিক উত্তেজনা কেন্দ্রগুলোতে।
এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেচীনের নানজিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি। ‘ডিস্ট্রিবিউটেড আর্লি ওয়ার্নিং ডিটেকশন বিগ ডেটা প্ল্যাটফর্ম’ নামের সিস্টেমটি আকাশ, মহাকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সেন্সর ডেটা সমন্বয় করে হুমকি শনাক্ত করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, এটি ‘বিশ্বব্যাপী প্রারম্ভিক সতর্কতা পরিস্থিতিতে’ একীভূত ডেটা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে চীনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হবে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই সতর্ক করেছিল, মার্কিন ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প ‘প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে’ এবং মহাকাশকে সামরিকায়নের পথে আরও এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প বলেছেন, ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ পুরোপুরি কার্যকর হবে, যা স্থল, সমুদ্র ও মহাকাশজুড়ে পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর ও ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করবে।
চীনা সিস্টেম কতটা কার্যকরভাবে মোতায়েন হয়েছে বা কবে পূর্ণতা পাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি বেইজিংয়ের ‘বিশ্বমানের সেনাবাহিনী’ গঠনের কৌশলের অংশ।
