ফুয়াদ রেদুয়ান কেবল নির্বাচন থেকে সরেই দাঁড়ান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম

সময়ের হিসেবে প্রায় এক বছর। গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন বলে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত আর জমা দেননি। অজুহাত দিয়েছিলেন, 'আমি মূলত ক্রিকেট সংগঠক। সামনে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। অন্য ফেডারেশনে থাকলে বোর্ডে থাকলে নির্বাচন করা যাবে না। তাই মনোনয়নপত্র জমা দেইনি।'

এবার ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে নানা নাটক করে ক্যাটাগরি-১ পরিচালক পদের জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। জমাও দিয়েছিলেন। তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলে আপিল করে তা ফেরতও পেয়েছিলেন। কিন্তু 'স্বচ্ছতার অভাবের' অভিযোগ তুলে শেষপর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন ফুয়াদ রেদুয়ান নির্বাচনের এক দিনের কম সময় আগে। 

দুপুরে মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ‘রাতের ভোট’কেও হার মানিয়েছে এবারের বিসিবি নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘রাতের ভোট তো...তবু তো ওরা ব্যালট বাক্স ভরেছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা (রাতের) ব্যালট বাক্সকেও হার মানিয়ে ফেলছে।’ 

তিনি বলেন, 'আজকের পত্রিকাগুলোতে শিরোনাম হয়েছে—‘বিসিবি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন।’ নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ! নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী ১ তারিখে ই-ব্যালট ও ডাকযোগে ব্যালট দেওয়ার কথা ছিল। আমি বহুবার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা আমাকে সময় দেননি।'

ফুয়াদের অভিযোগ, 'এখনও আমি চারজন কাউন্সিলরের ফোন নম্বর পাইনি। বিসিবি আমাকে দেয়নি। চারজন কাউন্সিলরের নম্বরই নেই। তাহলে আমি কীভাবে ভোট চাইব? ভোট মোটেই স্বচ্ছ নয়।'

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বুলবুল ও ফাহিমের যোগ্যতা নিয়েও,'মি. আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তাঁর ঢাকা বিভাগীয় ক্রিকেট সমিতি থেকে প্রার্থী হওয়াটা ঠিক হয়নি। তিনি কখনও ঢাকা বিভাগের কোনো জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ছিলেন না, কোনো জেলায় ক্রিকেট নিয়ে কাজও করেননি। একইভাবে নাজমুল আবেদীন ফাহিম—আমি জানতে চাই, তিনি কবে, কখন, কোন উপজেলা বা কোন জেলার সদস্য ছিলেন, আর কোন খেলা তিনি পরিচালনা করেছেন?।'

ফুয়াদ দাবি করেন, একজন কাউন্সিলর তাঁকে বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই ভোট দেবেন, 'আজও আমি গোপালগঞ্জের একজন ভোটারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারিনি। ভোরে আমি তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম ভোট চাইতে। তিনি ভয় পেয়ে বললেন, ‘আমি কীভাবে আপনাকে ভোট দেব? আমার ভোট তো মন্ত্রণালয়ের হাতে। মন্ত্রণালয় যেভাবে বলবে, আমি সেভাবেই ভোট দেব।’ তাহলে নির্বাচন কোথায়? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিসিবির আমিনুল, ফাহিম আর নির্বাচন কমিশন—তারা সুতাবিহীন একটা মালা গেঁথেছে। সেই মালা আমার গলায় কখনও পড়বে না। তাই আমি এই অস্বচ্ছ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।'

তবে ১ অক্টোবর ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ফলে ফুয়াদের নাম ব্যালট পেপারে থাকলেও তিনি কার্যত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তিনি সরে দাড়ানোয় বিসিবির বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত