চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শতভাগ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘আমেরিকার দুমুখো মানসিকতার প্রতিফলন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে বেইজিং। শনিবার এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে দেশটি চিন্তিত নয়। ওয়াশিংটন যদি ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়ন করে তবে চীন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিরল ধাতুর রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বেইজিং ‘অত্যন্ত বৈরী মনোভাব’ দেখাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনে এই বিরল খনিজ ধাতুগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, চলতি মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের পর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ওই দিন ২ দশমিক ৭ শতাংশ পতন ঘটে। এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন ছিল এটি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে মে মাসে দুই দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর আরোপিত শতভাগের বেশি শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা তখন সাময়িক স্বস্তি পেলেও পরে উত্তেজনা ফের তীব্র আকার ধারণ করে।
এখন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা চীনা পণ্যে বছরের শুরু থেকে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, আর চীনে প্রবেশ করা মার্কিন পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে।
এ ব্যপারে বেইজিং সর্বশেষ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণার অপব্যবহার করছে। তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে তা অযৌক্তিক। অন্যদিকে চীনের বিরল ধাতুর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘শুল্ক হুমকির মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা যাবে না। চীনের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার— আমরা বাণিজ্যযুদ্ধ চাই না, তবে প্রয়োজনে এর মুখোমুখি হতেও ভয় পাই না।’
গত সপ্তাহে বেইজিং বিরল ধাতুর রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একে বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা ও বিরল ধাতুর সামরিক ব্যবহারে বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
এই ধাতুগুলো ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। এ খাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই বাগযুদ্ধ কথার লড়াই আসলে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশলের অংশ।
