জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াল এনসিপি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৫ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে দলটির মিডিয়া সেল থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলটির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এক বার্তায় লেখেন, “জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনসিপি অংশ নেবে না।” তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি হবে না, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। 

এনসিপির মতে, আইনি ভিত্তি ছাড়া এমন কোনো স্বাক্ষর অর্থবহ নয়; বরং তা “জুলাই ঘোষণাপত্র”-এর মতো একপাক্ষিক চুক্তিতে পরিণত হতে পারে।

বার্তায় আরও জানানো হয়, কমিশনের পরবর্তী কার্যক্রমে এনসিপি অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। দলটির দাবি পূরণ হলে তারা ভবিষ্যতে স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দলিল ‘জুলাই সনদ’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। 

এতে অন্তর্ভুক্ত চুরাশি দফা সংস্কার প্রস্তাবে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সম্মত হয়েছে।

তবে প্রকাশিত খসড়ায় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। 

তাদের দাবি, ’২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে যে আন্দোলন ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটায়, সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস দলিলে অনুপস্থিত। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। 

১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণার মধ্য দিয়েই তার ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা নয় দফা থেকে এক দফায় পরিণত হয় — ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি’। কিন্তু জুলাই সনদের খসড়ায় সেই ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।”

রিফাত আরও অভিযোগ করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। 

কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো বারবার ছাত্র-জনতার প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছে, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত