সমুদ্রে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, ট্রলার-নৌকা মেরামতে ব্যস্ত জেলেরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০৮ পিএম

মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী- ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছরই অক্টোবর মাসে ২২ দিনের জন্য সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সমুদ্রগামী জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকার থেকে বিরত রয়েছেন। এই অবসর সময়ে বসে নেই উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা। বরং এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজেদের ট্রলার ও নৌকা মেরামতের কাজে। অনেকে আবার ট্রলার রং করানো, জাল মেরামত, যন্ত্রাংশ ঠিক করার মতো কাজেও মন দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা এলাকার বিভিন্ন জেলে পল্লী এবং ট্রলার মেরামতের ডগ গুলো ঘুরে দেখা যায়, দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট জেলে শ্রমিকরা।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আ. রহিম খান বলেন, এই ২২ দিনের অবসর সময় আমাদের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ। ট্রলার মেরামত, জাল ঠিক করা, ইঞ্জিন সার্ভিসিং,সবকিছু করছি যেন নিষেধাজ্ঞা শেষে পূর্ণ উদ্যমে মাছ ধরতে যেতে পারি।

জেলে ছগির মাঝি বলেন, মাছ ধরতে না পারলেও এখন সময় পাই ট্রলার মেরামতের, পুরোনো জালগুলো ঠিক করার। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই আবার সাগরে নামতে হবে, তাই সব ধরনের কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি।

জেলে নেতা ইউসুফ ঘরামী বলেন, অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিক সংকটে রয়েছেন। সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল সরবরাহ করা হলেও তা অনেক সময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না। আবার অনেক জেলেদের জেলে কার্ড না থাকায় সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। আমরা চাই যারা সত্যিকারের জেলে পেশায় সম্পৃক্ত রয়েছে তারা যেন সবাই জেলে কার্ড এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা ভোগ করতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এই পদক্ষেপের ফলে ইলিশের প্রজনন নিরাপদ হয় এবং পরবর্তীতে এর প্রভাব বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দামে ইতিবাচকভাবে পড়ে। কলাপাড়া উপজেলায় শতভাগ নিষেধাজ্ঞা পালনের কথাও বলেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, এ সময় কেউ সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করায় সাময়িক কষ্ট হলেও দীর্ঘমেয়াদে মাছের উৎপাদন বাড়বে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত