ছোটবেলায় একটি শিশুর বিনোদনের প্রধান খোরাক বাজারের নানা রকমের খেলনা। খেলনার মধ্যে বন্দুক ও চাকু সাদৃশ খেলনা শিশুদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। সন্তানকে হাসি-খুশি রাখতে অভিভাবকরা নির্ধিদ্বায় শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব। কিন্তু বন্দুক ও চাকুর মতো খেলনা সদৃশ অস্ত্রের বদলে সোনাগাজীর এক শিশুর হাতে দেখা মিলল আসল বন্দুক।
অনভিপ্রেত এমন ঘটনা ঘটেছে সোনাগাজী উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের চরবদরপুর গ্রামে। সস্প্রতি ওই গ্রামের হোসেন মাঝি বাড়ির সুজনের শিশু সন্তানের হাতে বন্দুকের একটি ছবি সামাজিক মাধমে প্রকাশের পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে শিশুটির সৌদি প্রবাসী মামা আসাদুর জামান নুর তার নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে বন্দুক হাতে ভাগিনার ছবি পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপসনে লিখেন ‘এটা আমার বড় ভাগিনা। ওর হাতে এ বয়সে খেলনার পিস্তল থাকার কথা, আর অথচ ওর হাতে এখন অরজিনিয়াল পিস্তল।’
সামাজিক মাধ্যমে বন্দুক হাতে শিশুর ছবি প্রকাশ হলে শুরু হয় তোলপাড়। কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুকের ওই পোস্ট আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার আগে অনেকে ছবি ও স্ক্রিনশট রেখে দেয়।
ঘটনার জানতে শিশুর পিতা সুজনের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বন্দুক হাতে শিশুকে তার সন্তান স্বীকার করে বলেন, আমার সন্তান তার নানার বাড়ি থাকতে। কে বা কারা তার হাতে বন্দুক দিয়ে ছবি ধারণ করলেও সেটি জানা ছিল না। তার মামা পোস্ট করার পর বিষয়টি জানতে পারি। আমার শ্যালকের কাছে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেয়নি।
তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন আমার সন্তানের হাতে বন্দুক তুলে দিয়ে সেটি ফেসবুকে প্রচার করে তার স্বাভাবিক জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে।
তবে এলাকার অনেকে সুজনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, বন্দুকটি সুজনের। একাধিকবার তার হাতে অস্ত্রটি দেখা গেছে। শ্বশুর বাড়ির সাথে ঝামেলা বাঁধলে তার শ্যালক ক্ষোভ থেকে ছবিটি ফেসবুকে প্রচার করেন।
এলাকাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে চাইলে সুজন বলেন, আমার শ্যালকের মাথায় সমস্যা রয়েছে। দেশে থাকতে অনেক পাগলামি করত। প্রবাসে গিয়েও পাগলামি বন্ধ হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আসাদুর জামান নুরের ম্যাসেঞ্জারে কল দিলেও সাড়া মিলেনি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসেনি। অনুসন্ধান করে সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
