হিজাব নিয়ে কটূক্তি, ক্ষমা চাইলেন রাবি অধ্যাপক

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ. আল মামুনের এক ছাত্রী হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ছবি দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার দিবাগত রাতে দেওয়া ওই পোস্টকে হিজাব নিয়ে কটূক্তি বলে দাবি করে রাতেই বিক্ষোভে নামেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এতে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা অধ্যাপকের শাস্তির দাবি জানান।

প্রতিবাদের মুখে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অধ্যাপক আ. আল মামুন তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এর আগে দুপুরে তার শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।

সোমবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে একটি ছাত্রী হল সংসদের শপথ অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করেন অধ্যাপক মামুন। ছবিতে হিজাব পরা ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন—

“এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আমি এন্ডোর্স করছি। কাল আমি এরকম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পরে ও হাতে নিয়ে ক্লাসে যাব। পরব টু-কোয়াটার, হাতে থাকবে মদের বোতল। মদ তো ড্রাগ না! মদ পান করার লাইসেন্সও আমার আছে! শিবির আইসেন, সাংবাদিকরাও আইসেন!”

পোস্টটি করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি তা মুছে ফেলেন এবং দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে ভাবার উদ্দেশ্যেই পোস্ট করেছিলেন; কারও পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করার উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে মুহূর্তেই পোস্টটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলো প্রদক্ষিণ করে তাঁরা রবীন্দ্র ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মামুনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর বহিষ্কারের দাবি জানান।

পোস্ট ঘিরে ক্যাম্পাসে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এক পোস্টে অধ্যাপক মামুন দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, “আমি এক-এগারোর সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করে জেল খেটেছি। ২০১৩ সাল থেকে নানাভাবে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে জুলুম-অত্যাচারের সমালোচনা করেছি—২০২৪ সাল পর্যন্ত। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় হতাশ হয়ে এমন কিছু লিখে ফেলেছি, যা লেখা উচিত হয়নি, লিখতেও চাইনি। ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।”

তিনি আরও লেখেন, “পোশাক বিষয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার—কারও পোশাকের কারণে আমি কাউকে বড় বা ছোট করে দেখি না। হিজাব রক্ষার পক্ষে আমার অনেক পোস্ট আছে। কেউ যদি আমার কথায় আঘাত পেয়ে থাকেন, আমি দুঃখিত। আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করি।”

শাস্তির দাবি রাকসুর

অধ্যাপক আ. আল মামুনের পোস্টকে ঘিরে রাকসু পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. ড. আ. আল মামুনকে তাঁর অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে;

২. ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে;

৩. প্রশাসনকে বিদ্বেষপূর্ণ ও উসকানিমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে;

৪. ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যেন ধর্মীয় পোশাক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে মন্তব্য না করতে পারেন, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে;

৫. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে সেমিনার বা ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত