ভর্তুকি নেই নিয়ন্ত্রণও নেই

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৬ এএম

নিরাপদে ও সাশ্রয়ীমূল্যে এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহারকারীদের সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি নানারকম তদারকি করে। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যূনতম ভর্তুকি তো দেওয়া হয়ই না, এমনকি ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকারি সংস্থাগুলোর যে ধরনের তদারকি দরকার, তাও চোখে পড়ে না খুব একটা।

ফলে একদিকে অস্বাভাবিক দাম অন্যদিকে ব্যবহারে নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ, যা বর্ধনশীল এ খাতের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। এজন্য সরকারের যথাযথ নীতি পলিসি আর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ীকেও দুষছেন অনেকেই।

প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট আর মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলে এলপিজির ব্যবহার বাড়লেও নানা কারণে এখনো প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারে বড় কোনো জায়গা নিতে পারেনি এটি। বর্তমানে দেশে যেসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে এলপিজির অবদান মাত্র ২ শতাংশ।

মূলত বাসাবাড়িতে রান্নায়, কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটোগ্যাস) ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। গত সাত বছরে দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে এখন ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে।

এ খাতে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিলেও মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এলপিজি অপারেটর হিসেবে নিয়োজিত। এলপিজির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন। এ বাজারের ৫৫ শতাংশ ব্যবসা রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের হাতে। এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার রয়েছে চার কোটি।

এলপিজি নিয়ে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী উভয়পক্ষের রয়েছে ক্ষোভ-অসন্তোষ। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজির মূল্য অনেক চড়া। আর ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন ব্যয় বেশি ও কিছু নীতি পলিসির অভাবে মূল্য বাড়ছে। একই সঙ্গে এ খাতে অনেক সরকারি সংস্থার নিবন্ধন নেওয়ার হয়রানি ও অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তাদের।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি খাতে তামাশা চলছে। পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করে এলপিজির বাজার তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসকে দেশের সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে হলে রেগুলেটরি কমিশনকে অবশ্যই ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হবে। দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের দাম যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এ দাম কমিয়ে আনতে হবে। ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করে, সেবা দিয়ে এলপিজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এলপিজি খাতের সুশৃঙ্খল বিকাশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করাই নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনে আসার পর এখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকটি অধিদপ্তরের সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক করেছি। তাদের দাবি, তারা অনেক কাজ সহজীকরণ করেছেন। তবে এটা স্বীকার করতেই হচ্ছে, লাইসেন্স প্রাপ্তিতে এখনো অনেক কাগজ লাগছে। আলাদা ফি না নিয়ে কীভাবে একসঙ্গে লাইসেন্স ফি নেওয়া যায় এবং লাইসেন্স সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়গুলো আমরা দেখব।’

ভোক্তা অসন্তোষ চরমে : পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এলাকাভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ রুপি (১০৫০ থেকে ১১৯০ টাকার মতো)। এ টাকায় এলপিজি কেনার পর ভোক্তাকে সরকারিভাবে সরাসরি সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। তখন এর দাম পড়ে ৬৫০ থেকে ৭৯০ টাকার মতো। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে সেখানে এলপিজির দর ওঠানামা করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের চেয়ে কম ওজনের সিলিন্ডার অর্থাৎ, ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ২৪১ টাকা। এই দাম আগে আরও বেশি ছিল। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ১২.৫ কেজি এলপিজির দাম মাত্র ৮২৫ টাকা।

দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এই এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দর নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম কমবেশি হলেও সরকারি এলপিজির দাম একই থাকে। কমিশন মাসে মাসে নিয়মরক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তার চেয়েও বাড়তি মূল্যে এলপিজি কিনতে হচ্ছে বলে ভোক্তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বাস্তবে এর প্রমাণও রয়েছে অহরহ। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়, বাড়তি দাম নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তবুও ভোক্তাকে বাড়তি দামেই এলপিজি কিনতে হয়।

অস্বাভাবিক এই দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘১ হাজার ২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয় ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এটার দায় নিতে হবে ব্যবসায়ীদের। দায়দায়িত্বহীন ব্যবসা তো চলতে পারে না। ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার টাকার কমে বিক্রি হওয়া উচিত। এলপিজির দাম কমাতেই হবে। আমরা মোবাইল কোর্ট করব।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে এলপিজি একটা বড় সমাধান হতে পারে। বড় সমস্যা হলো এলপিজির দামটা বেশি। তবে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত মুনাফা করে সম্পদের পাহাড় গড়ে বিদেশে টাকা পাচার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ মনে করেন, ‘মাতারবাড়ী এলপিজি টার্মিনালে বড় ও মাঝারি জাহাজের জন্য নোঙর সুবিধা উন্নত করা গেলে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া অপারেটরদের কাছ থেকে মাশুলের সঠিক তথ্য পেলে সঠিক মূল্য নির্ধারণে আমরা ভূমিকা রাখতে পারব।’

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এলআর ইনস্টিটিউট যৌথভাবে একটি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এতে দুর্ঘটনার হারও বাড়তে থাকায় এখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এলপিজি সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, এ বছর গ্যাস খাতে মোট অগ্নিদুর্ঘটনা দেড় হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৫৮০টি এলপিজি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গ্যাসজনিত অগ্নিকা-ে আনুমানিক ২০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ দুর্ঘটনাগুলো মূলত গ্যাসের লিকেজ থেকে ঘটে। একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিস্ফোরক পরিদপ্তরকেও দায়ী করা হচ্ছে। কারণ, বাজারে যেসব সিলিন্ডার ও এর যন্ত্রাংশ রয়েছে সেগুলোর যথাযথ মান ঠিকমতো তদারকি করা হয় না। এ সুযোগে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার ও এতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘এলপিজির ব্যবহার বাড়লে দুর্ঘটনার বিষয়ও থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতের ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা সবাইকে সচেতন হতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার বিকল্প নেই। তৈরি পোশাক খাতে প্রশিক্ষণের কারণে যেমন অগ্নিকা-ের হার কমেছে, এলপিজি খাতেও তেমনি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জরুরি।’

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরাও : ভোক্তাদের পাশাপাশি এ খাতের ব্যবসায়ীদেরও রয়েছে নানারকম ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, এসব সমস্যার কথা বিভিন্ন সময়ে সরকারকে বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ খাতে ব্যবসা করতে ১৯-২০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র নিতে গিয়ে ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকার ফি দেওয়ার পাশাপাশি বিপিসিকেও বাজার ফি দিতে হয়। এ ছাড়া আমদানিকৃত এলপিজির জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সেখান থেকে ছোট ছোট জাহাজে করে আনতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।’

তিনি বলেন, এ খাত টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। সরকার মাতারবাড়ীতে একটি এলপিজি টার্মিনাল করলে প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ২৫-৩০ ডলার পর্যন্ত কমে আসবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃভর্তি বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সিরাজুল মাওলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে এখন গাড়িতে সিএনজির পরিবর্তে এলপিজি অটোগ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এ খাতে বড় সংকট হলো পলিসি সমস্যা আর আমলান্ত্রিক জটিলতা।’

তিনি বলেন, ‘এলপিজি গ্যাস প্ল্যান্ট বসাতে প্রায় ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নিতে হয়। এতে অনেক বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি সময় লাগে দুই-তিন বছর। কখনো কখনো পাঁচ বছরও লাগে।’  তার ভাষায়, ‘পরিবেশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তর এমনভাবে নীতিমালা তৈরি করেছে, যেখানে কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনা ছাড়া বছরের পর বছর সময় পার করেও লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়। এর সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অদৃশ্য খরচ। এতে বিনিয়োগকারীর মোট বিনিয়োগের ৩০-৪০ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ হয়।’

এসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর বহুমুখী হয়রানি বন্ধে ওয়ান স্টপ সার্ভিস অর্থাৎ এক জায়গা থেকেই যেন সব লাইসেন্স ও ছাড়পত্র দ্রুত সহজেই নেওয়া যায়, সেই দাবি করেছেন সিরাজুল মাওলা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স নিতে বিভিন্ন দপ্তরে সরকারি ফি দেড় লাখ টাকার মতো। কিন্তু ঘুষ দিতে হয় আরও অন্তত ৭-৮ লাখ টাকা। স্থানভেদে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

যানবাহনে সিএনজির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারের জন্য এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপনকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সালে এলপিজি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন আছে।

দেশে এলপি গ্যাসের ব্যবহার : এলপিজির প্রবৃদ্ধির চিত্রে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর ব্যবহার ছিল সাত লাখ টন। পরের অর্থবছরে সাড়ে আট লাখ টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে সাড়ে ১০ লাখ টনে উন্নীত হয়। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বেড়ে এখন ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। ক্রমান্বয়ে এলপিজির ব্যবহার বাড়ায় ২০৩০ সালে পণ্যটির ব্যবহার ২৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, আগামী পাঁচ বছরে চাহিদা বাড়বে প্রায় ৬৭ শতাংশ।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৬৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এ আমদানিনির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। আবার আমদানির সক্ষমতাও সীমিত। এ বাস্তবতায় এলপিজি আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সামনে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত