টানা অষ্টম মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন ক্যামেরুনের ৯২ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। শপথ গ্রহণের পর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আক্রান্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
রাজধানী ইয়াউন্দের সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ এ প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতিবিদদের’ দায়ী করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বিয়া জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, দেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’
গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলেও বিয়া সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সন্তোষজনক বলে আখ্যায়িত করেন। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসা শিরোমা বাকারী পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোট।
তবে শিরোমা বাকারী নিজেকে নির্বাচনের প্রকৃত বিজয়ী দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুসারে, এ সহিংসতায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত ও ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে বিভিন্ন সংস্থার মতে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অভিনন্দন জানান বিয়া। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘নির্বাচন এখন অতীত।’ দেশের নাগরিকদের ‘একতাবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ’ দেশ গড়তে তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট বিয়া আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার সরকার নারী ও তরুণদের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দেবে। পাশাপাশি, তার দীর্ঘ শাসনামলে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী দুর্নীতি ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন পল বিয়া। সমালোচকদের মতে, সেই সময় থেকেই তিনি কঠোর হাতে দেশ শাসন করে আসছেন।
শপথগ্রহণের আগে শিরোমা বাকারীর ডাকে দেশব্যাপী ধর্মঘটের কারণে ক্যামেরুনের বেশ কিছু অংশ অচল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে তার শক্ত ঘাঁটি গারুয়া ও ডুয়ালা শহরে। বাকারী বলেছেন, তার ‘বিজয়’ স্বীকৃত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রতিরোধ চালিয়ে যাবেন। এছাড়াও, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন ও নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের কারণে ক্যামেরুনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বিদেশি শক্তির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, সাংবিধানিক পরিষদ জালিয়াতির আটটি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তাদের যুক্তি, অভিযোগ প্রমাণে অনিয়মের অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে অথবা ফলাফল বাতিল করার এখতিয়ার তাদের নেই। উল্লেখ্য, শিরোমা বাকারী একসময় সরকারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
