ভেস্তে গেলো আফগানিস্তান-পাকিস্তান আলোচনা, যুদ্ধের দামামা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২২ পিএম

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপ আপাতত বন্ধে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে কখন নতুন করে আলোচনার তারিখ নির্ধারণ হবে সেটাও এখনও জানা যায়নি। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন শুক্রবার (৭ নভেম্বর)।

খাজা আসিফ বলেন, ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার বৈঠকেও দুই পক্ষ লিখিত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি; ফলে আলোচনাসংক্রান্ত বিষয়গুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত পেয়েছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে সীমানা বরাবর পাল্টাপাল্টি সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তুরস্ক ও কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি যোগ করেন, আফগানিস্তানের প্রতিনিধিরা মৌখিকভাবে পারস্পরিক আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান—তবে পাকিস্তান শুধু আনুষ্ঠানিক, লিখিত চুক্তিই গ্রহণ করবে বলে জোর দিয়ে বলেছেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান চাইছিল মৌখিক নিশ্চয়তিই যথেষ্ট হবে; কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তা গ্রহণযোগ্য নয়।”

প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও কার্যকর, চুক্তিভিত্তিক সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। খাজা আসিফ আরও উল্লেখ করেন, মধ্যস্থতাকারীরাও শেষ পর্যায়ে হতাশ হয়েছেন কারণ লিখিত সমঝোতার ওপর আফগান প্রতিনিধিরা সই করতে রাজি ছিলেন না।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী আক্রমণের পর উত্তেজনা বাড়ে এবং উত্তেজনা নিরসনে দুইদেশীয় আলোচনা শুরু করা হয়েছিল। ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার বৈঠক ছিল চলমান প্রচেষ্টার অংশ। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ আপাতত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই থেমে আছে।

খাজা আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের পক্ষে অনন্যোচিত হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করা হচ্ছে—তারা চায় আফগান মাটি আর কখনও পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার করা হবে না। এই পয়েন্টটাই পাকিস্তানের জন্য মৌলিক দাবি হিসেবে তিনি আরোপ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লিখিত ভিত্তিতে সন্তোষজনক সমঝোতা না হলে সীমান্তে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং দুইদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও সংকটগ্রস্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত