নারী কাবাডি বিশ্বকাপ: ভারত ছাড়া বাকি সব দলকে হারানোর ক্ষমতা আছে বাংলাদেশের'

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০০ পিএম

ক্রিকেট বাদে এ দেশে খেলাধুলার বৈশ্বিক আসর সেভাবে আয়োজিত হয়নি। অতীতে বাংলাদেশে ক্রিকেটের দুই ফরম্যাট ও বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে। বহু বছর আগে রোলবল বিশ্বকাপ নামে একটি আসর আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশন। যদিও সেই আসর নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এবার জাতীয় খেলা কাবাডি দিয়ে বাংলাদেশের নাম উঠে যাচ্ছে আয়োজক হিসেবে। ১৫ (১৭ তারিখ শুরু) থেকে ২৫ নভেম্বর নারী কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরের আয়োজক বাংলাদেশ। বিশ্বের ১১টি দেশ অংশ নিচ্ছে মর্যাদার এই আসরে। একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের সব প্রস্তুতিই শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।

তিন দিন আগ পর্যন্ত আসরে দল সংখ্যা ছিল ১২টি। আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করায় দল কমে দাঁড়িয়েছে ১১টি। সফরকারী ১০ দলই এখন ঢাকায়। ১৭ তারিখ মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোরে পর্দা উঠবে আসরের। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে হতে যাচ্ছে এই আসর। যেখানে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছে বিশ্ব কাবাডির পরাশক্তি ভারত, ইরান, থাইল্যান্ড, নেপাল, চীনা তাইপে, জার্মানি, পোল্যান্ড, কেনিয়া, উগান্ডা ও জাঞ্জিবার।

বাংলাদেশ জাতীয় দল ঘোষণা ও আসরের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জানাতে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগের বিশ্বকাপ সফল আয়োজনে সরকারের দিক নির্দেশনা মেনে সকল প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলেছেন। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা, আবাসন, যাতায়ন, ভেন্যু ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান তিনি। বিশাল এ আয়োজনে সহযাত্রী হওয়ায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সরকারের অন্যান্য দপ্তর এবং পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কাবাডি ফেডারেশন। কর্তাতের বিশ্বাস, এই আয়োজন নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেওয়াজ সোহাগ জানান, আজ আসরের ট্রফি উন্মোচিত হবে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায়। প্রধান উপদেষ্টা মর্যাদার ট্রফি উন্মোচন করবেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অধিনায়কের উপস্থিতিতে।

নারী কাবাডি বিশ্বকাপের সংবাদ সম্মেলন।

আঙিনায় বিশ্বকাপ বলেই বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের স্বপ্ন পদক জয়। পাশাপাশি বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করার কথাও বলেছেন ফেডারেশন সাধঅরণ সম্পদাক, 'নারীদের র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পঞ্চম। এই বিশ্বকাপ দিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা সম্ভব। আমাদের সামনে সে সুযোগ রয়েছে। দলের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশাও এটি। এই প্রথম বাংলাদেশ নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। আয়োজক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করা। এখানে বিভিন্ন দেশের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারিসহ আরও অনেকে আসবেন। আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে কাবাডি বিশ্বে আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হবে।'

শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার সরে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যা সোহাগ বলেন, 'আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে আসবে না বলে আমাদের আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশন (আইকেএফ) থেকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানও আসেনি, কারণ তাদের দল ভালো অবস্থায় নেই। স্ট্যান্ডবাই থেকে পোল্যান্ড এসেছে। আন্তর্জাতিক কাবাডির সর্বোচ্চ সংস্থা আইকেএফের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সবকিছু পরিচালনা করছি।'

বিশ্বকাপকে প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে অংশগ্রহণকারী প্রতিট দেশ থেকে রেফারি আনার কথা জানান সোহাগ। বিশ্ব কাবাডির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভারত থেকে এসেছেন পাঁচ রেফারি।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এ দলের নের্তৃত্ব দেবেন অবসরের ঘোষণা দেওয়া অভিজ্ঞ রূপালি আক্তার সিনিয়র। তার অবসরের পর দলের দায়িত্ব এথাকবেন শ্রাবনী মল্লিক। এছাড়া দলে আছেন- বৃষ্টি বিশ্বাস, স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারী, মেবি চাকমা, রূপালি আক্তার, আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান সাদিকা ও তাহরিম। দলের কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক খেলোয়াড় আরদুজ্জামান মুন্সি ও শাহনাজ পারভীন মালেকা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল

কোচ আরদুজ্জামান দলের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, 'আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে অনুশীলন শুরু করেছিলাম। আমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক বেশি, আর অন্তত একটি পদক জয়ের আশায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। ভারত কাবাডিতে অনেক এগিয়ে আছে। এই মুহূর্তে তারা আমাদের নাগালের বাইরে। তবে ভারত ছাড়া অন্য সব দলকেই হারানোর মতো সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।' বিশ্বকাপের মতো আসর থেকে অবসরের সুযোগ পেয়ে খুশি অধিনায়ক রূপালী, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে কাবাডি খেলছি, শুরুটা ২০০৯ সালে। বিশ্বকাপ দিয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছি। এমন আসরে অধিনায়ক হতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। মজার বিষয় হলো, এ আসরেই আমি প্রথমবারের মতো দলকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছি। বিদায়ী আসরে আমার ওপর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়ায় বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত