সান সিরোতে ইতালিকে ৪–১ গোলে হারিয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠল নরওয়ে। দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলের ঐতিহাসিক রাতে নরওয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ড।
গ্রুপ আই–এ নরওয়েকে থামানোর মতো দল ছিল না প্রায় নিশ্চিতভাবেই। শেষ ম্যাচে ইতালির সামনে ৯ গোলের কঠিন সমীকরণ থাকলেও সেই ভাবনার সুযোগই দিল না তারা। পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল অতিথিরা।
ম্যাচের শুরুতে আধিপত্য ছিল ঘরের মাঠে খেলতে নামা ইতালির। ডিমারকোর শট পোস্টের বাইরে যাওয়ার পর ১১তম মিনিটে চমৎকার টার্ন ও ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন ২০ বছর বয়সী ফ্রান্সেসকো পিও এসপোজিতো।
এরপর আরও একটি হেড সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। প্রথমার্ধে ইতালি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরিষ্কার সুযোগ ছিল খুব কম।
বিরতির পর নরওয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে। শুরুতেই সারলথ ও রায়েরসনের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৬৩ মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে নরওয়ে—সারলথের পাস থেকে দারুণ ড্রাইভে গোল করেন তরুণ উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা।
নুসাকে পরক্ষণেই দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। তবে তাতেও ম্যাচ বাঁচেনি ইতালির।
৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা অস্কার বোবের দারুণ পাস থেকে ভলি শটে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নেন হালান্ড। ঠিক এক মিনিট পর থরস্টভেডের ক্রস থেকে সহজ ট্যাপে দ্বিতীয় গোল—এই জোড়া আঘাতেই ম্যাচ পুরোপুরি নরওয়ের দখলে চলে যায়।
স্টপেজ টাইমে জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন দোন্নারুম্মাকে ঠকিয়ে চতুর্থ গোল করেন, ফলে বড় ব্যবধানে জিতেই নরওয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে।
ইতালি এখন প্লে–অফে
জুনে নরওয়ের কাছে ৩–০ ব্যবধানে হারের পরই বিদায় নিতে হয়েছিল লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে। তার উত্তরসূরি গাত্তুসোর সামনে এবার আরও কঠিন পথ—ইতালিকে বিশ্বকাপে যেতে হলে খেলতে হবে প্লে–অফ। সবার শংকা গত দুটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্লে অফের পরিনতিই না হয় ইতালির।
