নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উত্তরা ইপিজেডের কর্মী ও স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীসহ অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। দুই লেনের এই সড়কটি চার লেনে উন্নতীকরণসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে “আর নয় সড়কে মৃত্যু, শান্তি ও নিরাপদ হোক পথচলা” স্লোগান নিয়ে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে টিআইবি পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এদিকে মানববন্ধন চলাকালিন সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলমের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মেসবাহুল হক, ইয়েস গ্রুপের আহ্বায়ক তাহমিনুল হক ববী, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, জেলা ট্রাক-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আজম, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস জেলা শাখার সভাপতি সাকিল ইসলাম, নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়তা সাহা, ইয়েস গ্রুপের এসিজি সমন্বয়ক মো. আব্দুল মোমিন, সনাক সদস্য মো. মিজানুর রহমান লিটু ও নাসিমা বেগম।
এ ছাড়া সনাক, ইয়েস, অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি), গণমাধ্যম প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থার সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ নাগরিক মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময় ইয়েস দলনেতা ফারজানা আক্তার আরিফা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল শুরু হয়ে সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড় থেকে নীলফামারী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি একটি প্রাণঘাতী সড়কে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটছে। উত্তরা ইপিজেড এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করায় এই সড়কটিকে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহিৃত হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সড়কপথে সুশাসনের অভাব, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব এবং কার্যকর মনিটরিং না থাকায় দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য ওয়াপদা মোড় থেকে নীলফামারী পর্যন্ত সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা’ ঘোষণা করে ঝুঁকি ও গতিসীমা নির্দেশক সাইনপোস্ট স্থাপন করা, সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ককে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণ এবং স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা মনিটরিং কমিটিকে সক্রিয় করা সহ ১১দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
