জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সমবায় সমিতির নামে হাতিয়ে নেওয়া আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে উপজেলার সকল দাপ্তরিক সেবা কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করা হয়। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলেছে এই কর্মসূচি। মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য সহায়ক কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।
এক বছর ধরে এই ব্যানারে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও একাধিকবার উপজেলা পরিষদ ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো গ্রাহকই তাদের টাকা ফেরত পাননি।
প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে সপ্তম দিনের মতো নারী–পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ভুক্তভোগীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এরপর তাঁরা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয়টি ঘেরাও করেন। এতে উপজেলা পরিষদ, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তা, মৎস্য, যুব উন্নয়ন, পরিসংখ্যান, সমবায়, ভূমি, শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, খাদ্য, সমাজসেবা ও কৃষি কর্মকর্তাসহ ২৩টি দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত তারা টাকার ফেরতের নিশ্চয়তা পাবেন না, ততদিন এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল ঘেরাও কর্মসূচির সঙ্গে আবারও মশাল মিছিল করা হবে। আর আগামী রোববার থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রাহকরা।
আমানতের অর্থ উদ্ধার কমিটির সদস্য মাহবুব আলম বলেন, “গত সাত দিন ধরে টানা এভাবে সবকিছু বন্ধ থাকার পরও প্রশাসনের কোনো কর্ণপাত নেই। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন। এবার আমরাও প্রশাসনের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চাই। আমরাও দেখব তাদের (প্রশাসন) কত ধৈর্য আছে। টাকার নিশ্চয়তা ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবেন না। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকের ৭৩০ কোটি টাকা সমবায় সমিতিগুলোতে ছিল। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবি, ২৩টি সমিতির মধ্যে আল–আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদ্বীপ, হলিটার্গেট ও রংধনু অন্যতম। এই ছয়টি সমিতির কাছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি জমা আছে। শুধু মাদারগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সমিতিগুলোতে আছে। এছাড়া ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদরে আরও কয়েক হাজার গ্রাহক রয়েছেন।
আমানতের অর্থ উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী বলেন, “আমাদের সমাধান দরকার। প্রশাসনের কথাবার্তা রহস্যজনক। জাতীয় নির্বাচনের আগেই একটি সমাধানে আসতে হবে। এবার সমাধান ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবেন না। আগামী রোববার থেকে ঘেরাও কর্মসূচির সঙ্গে আরও নতুন ও কঠোর কর্মসূচি আসছে। আন্দোলনকারীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই আন্দোলন চলতে থাকবে।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ বলেন, “আমি আমার জায়গা থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। সপ্তম দিনের মতো সবকিছু বন্ধ। কিন্তু তারা পুরো টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা চান। সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। বড় বড় সমিতিগুলোর মালিকসহ সবাই দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। আমি প্রতিদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি এবং বিষয়গুলো প্রতিদিন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।”
