ভয়াবহ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: সচেতনতার বিকল্প নেই

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মৃদু এবং মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে দেশ। এই কম্পনগুলো আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। যদিও এই মৃদু কম্পনগুলো সরাসরি বড় কোনো ক্ষতি করছে না, তবে এগুলো বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও, আশ্চর্যজনকভাবে এই বিষয়ে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমরা এখনও উদাসীন।

মূল সমস্যা ও প্রেক্ষাপট

ভৌগোলিক অবস্থান: টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশ সব সময়ই বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই ঝুঁকি প্রকট।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ: ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ভবন এবং পুরনো জরাজীর্ণ অবকাঠামো বড় ঝুঁকির কারণ। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এই ভবনগুলো বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সচেতনতার অভাব: সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্প পরবর্তী করণীয় এবং পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না, তা অধিকাংশ মানুষ জানে না।

প্রশাসনিক দুর্বলতা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কাগজে-কলমে থাকলেও, এর কার্যকর প্রয়োগ এবং মহড়া খুবই সীমিত। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ঘাটতিও লক্ষণীয়।

ক্ষতির শঙ্কা

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা রোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতা ও প্রস্তুতি না থাকলে, বড় মাত্রার একটি ভূমিকম্পে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হতে পারে, এবং দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই ঝুঁকি এড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো জরুরি:

জনসচেতনতা বৃদ্ধি: গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিকম্পকালীন করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।

ভবন নির্মাণে কঠোরতা: বিল্ডিং কোড বা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও মহড়া: নিয়মিতভাবে ভূমিকম্প মহড়ার আয়োজন করতে হবে, যাতে মানুষ দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উদ্ধারকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি: ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সরঞ্জাম ও জনবলের আধুনিকায়ন করতে হবে।

ভূমিকম্প একটি নীরব ঘাতক হতে পারে। আমাদের উদাসীনতা এবং অসচেতনতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এখনই সময় জেগে ওঠার এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কেবলমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারব।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত