মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আজ সন্ধ্যার আগুন যেন শুধু ঘরবাড়িই নয়, সাধারণ মানুষের আজীবনের সঞ্চয় আর স্বপ্নগুলোও পুড়ে শেষ হয়ে যায়।
ঘনবসতিপূর্ণ এই বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই অনেকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেদের ঘর হারালেন।
অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে নেওয়ার।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর এই আগুন লাগলেও শেষ পর্যন্ত রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানে আগুন নেভাতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মিডিয়া বিভাগের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান। আগুন নির্বাপণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় পরে আরও ৬টি ইউনিট যোগ দেয়।
ওই বস্তির ঘরগুলো টিন, বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি। একতলা, দোতলা, তিনতলা ঘরগুলো আগুনে জ্বলছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বস্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গার ওপর ১০ হাজার ঘর রয়েছে এই বস্তিতে। যেখানে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডে ঘটে।
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ওই বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়ে যায় অন্তত ডজনখানেক ঘর। গত বছরের ২৪ মার্চ ও ১৮ ডিসেম্বরেও আগুনে পুড়ে কড়াইল বস্তি।
প্রায় প্রতিবারই অগ্নিনির্বাপক বাহিনী জানিয়েছে, বস্তিতে ঢোকার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেগ পেতে হয়। টিন, বাঁশ, কাঠের ঘরগুলো গায়ে গা লাগিয়ে ওঠানো হয়েছে; যার কারণে এখানে আগুন লাগলে দ্রুত ছড়ায়।
বিস্তারিত ভিডিওতে...