টিকটকে প্রেমে জড়িয়ে সন্তানকে রেখে চলে গেলেন মা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ পিএম

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চাঁনপট্টি গ্রামে একটি ছোট শিশুর ওপর মা ও সামাজিক ব্যাধির নিষ্ঠুর প্রভাবের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। টিকটক ব্যবহার করে পরকীয়া প্রেমের জালে ফেঁসে ৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ বায়েজিদকে মা ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীরা হতবাক। শাসনহীন সামাজিক প্রথা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁনপট্টি গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরের বড় ছেলে মো. ফরিদ মাতুব্বর (২৯) ও শ্রীকৃষ্ণদি গ্রামের কামরুল ফকিরের মেজো কন্যা রতনা বেগম (২৩) ৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুই বছর পর তাদের ঘরে আসে এক পুত্র সন্তান, যার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ বায়েজিদ। পরে জীবিকার তাগিদে ফরিদ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লায় চলে যান এবং সেখানে গ্রামাঞ্চলে বিছানার চাদর বিক্রি করেন।

কুমিল্লায় অবস্থানকালে রতনা টিকটকের মাধ্যমে শুভঙ্কর নামের এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে মোবাইলের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগের পর গভীর প্রেমে আসক্ত হন। শিশুটি বায়েজিদ যখন বিষয়টি বাবার কাছে জানায়, তখন রতনা তার ওপর ক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। বাবার অসহায়তায় কুমিল্লা থেকে ফরিদ স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, রতনা পরকীয়া প্রেমিকের টানে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে শশুরবাড়ি থেকে ফিরে আনার চেষ্টা করা হলেও তিনি একতরফা স্বামী তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে ৪ মাস ধরে শিশুটি মায়ের আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত।

শিশু বায়েজিদ মলিন মুখে বলেন, ‘আমার মা পঁচা। এক বেডারের সঙ্গে দিন-রাত কথা বলে। আমাকে কোনো আদর দেয় না। ফোন আসলেই ঘরের বাইরে চলে যায়। একদিন মা-কে দুই মশা কামড় দিয়েছে বলে মোবাইলের মধ্যে ওই বেডা বলেছিল—‘আমার জানকে কামড় দিলি’। বাবার কাছে এসব কথা বলায় মা আমাকে মারছে, মুখ চেপে ধরছে আর বলে, ‘আমি কার সাথে কথা বলি। এখন মা চলে গেছে।’

ভুক্তভোগী ফরিদ মাতুব্বর জানান, ‘আমি কখনো টিকটক চালানোকে কারণে কিছু বলিনি। কিন্তু জানি না আমার স্ত্রী শুভঙ্করের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিষয়টি জানার পর আমি ছেলের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রেমিকের টানে স্ত্রী চলে গেছে। এরপরও তাকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করেছি, কিন্তু ফিরে আসেনি। একতরফা তালাক দিয়েছেন। সন্তানকেও দেখেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি ইজিবাইক চালাই। ছেলেটির লেখাপড়ার সব ব্যবস্থা করব, বড় হলে ওর স্বপ্ন পূরণে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব। তবে রতনা যদি এখনো ফিরে আসতে চায়, আমি রাজি আছি। কারণ আমি ওকে অনেক ভালোবাসি।’

মাদারীপুরের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, ‘আজকের সমাজে টিকটক ও পরকীয়া একটি ব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে যুব সমাজসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন। মিডিয়াতে কিছু পরকীয়ার ঘটনা উঠে এলে, অধিকাংশই অজানা থেকে যায়। এই ঘটনায় যেমন ছোট্ট একটি শিশুকে মা ছেড়ে গেছে, তার ভবিষ্যৎ কি হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ বিজ্ঞানীরা যদি বিষয়টি গবেষণা করে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরকীয়ার প্রবণতা কমবে এবং শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত