রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লেফট–ব্যাক রবার্তো কার্লোস আবারও মনে করলেন এক অবিস্মরণীয় ঘটনার কথা—২০০৬ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ে রিয়াল–বার্সেলোনা ক্ল্যাসিকো, যেখানে তরুণ লিওনেল মেসি তার স্বর্গীয় পারফরম্যান্সে পুরো ম্যাচ মাতিয়ে রেখেছিলেন।
ওবি মিকেলের পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে কার্লোস জানালেন, সেই ম্যাচে মেসিকে থামানোর চেষ্টায় চরম মূল্য দিতে হয়েছিল তাঁকে—ভেঙে যায় তাঁর বাঁ হাতের একটি আঙুল। “মেসি অবিশ্বাস্য। দেখুন আমার আঙুলটা—এটা মেসি করেছে। আমি ওর জার্সি ধরে থামাতে চেয়েছিলাম, আর ‘প্যাক’ করে আঙুল ভেঙে গেল। সে এতই দ্রুত, বাইরে যাওয়ার ভান করে ভেতরে ঢুকে গেল... এটা আজও আমার মনে আছে,” বললেন কার্লোস।
ঘটনাটি ঘটে মেসির এক দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়া মুহূর্তে। পিছন থেকে ধরতে গিয়ে ধাক্কা সামলাতে না পেরে আঙুল ভেঙে ফেলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। তবুও তিনি ম্যাচটি খেলেন এবং পরের ম্যাচের জন্য আঙুল শক্তভাবে বাঁধতে হয়েছিল তাঁকে।
এর আগেও কার্লোস মেসির আরেক মহাকাব্যিক ড্রিবল নিয়ে কথা বলেছেন—যেখানে একই সঙ্গে তিনজনে তাকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি এবং ফাবিও কানাভারো। ৯০মিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “মেসি যখন আমাদের দুজনকে কাটিয়ে দৌড়ে চলে গেল, ম্যাচ শেষে আমি কানাভারোকে বলেছিলাম—‘ঈশ্বর! এ কোন ফুটবলার? নতুন ম্যারাডোনা!’”
২০০৬ সালের সেই ক্ল্যাসিকোতে মেসি ছিলেন বার্সার সেরা খেলোয়াড়। স্প্যানিশ গণমাধ্যমও তাকে ম্যাচসেরা ঘোষণা করে। ওই ম্যাচে এমারসন কঠোর ফাউলের জন্য একটি হলুদ কার্ড দেখেন এবং পরেরবার ভয়াবহ ট্যাকল করেও দ্বিতীয় হলুদ থেকে বেঁচে যান। সেই চোটে মেসির গোড়ালি মচকে যায় এবং পরের ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি।
রবার্তো কার্লোসের মতে, মেসিকে সামলানো ছিল দারুণ কঠিন চ্যালেঞ্জ। “মেসি ফ্যান্টাসি। তবে যেসব বাচ্চা ফুটবলার হতে চায়, তাদের উচিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ত্যাগ আর পরিশ্রম দেখে শেখা,”—বললেন তিনি। মেসির খেলার স্টাইলকে তিনি জিনেদিন জিদানের সাথে তুলনা করেন, আর রোনালদোর পেশাদারিত্বকে নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ বলে উল্লেখ করেন।
পডকাস্টে এই ব্রাজিলিয়ান আইকন নিজের রিয়াল সময় নিয়েও কথা বলেন। জানালেন, এখন ক্লাবেরই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং বলেন, “এখন আগের চেয়েও বেশি কাজ করি। অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা ভীষণভাবে মিস করি।”
গ্যালাকটিকোস যুগের স্মৃতিতে তিনি ডেভিড বেকহ্যামকে প্রশংসায় ভরিয়ে বলেন, “সে ছিল সবচেয়ে নিয়মিত, প্রশিক্ষণেই হোক বা ম্যাচে—কখনো ভুল করত না।”
জিদানকে বলেন “চলার পথে চলা জাদু”, আর রোনালদো নাজারিওকে মনে করেন “আমাদের সময়ের সেরা খেলোয়াড়, যদি এত ইনজুরি না হতো”।
রোনালদিনহো সম্পর্কে তার মন্তব্য ছিল—“সে মানসিকভাবে নয়, পেশাদারত্বে কিছুটা ঘাটতি রেখেছিল। সেরা সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার পর শুধু আনন্দ করতেই বেশি আগ্রহী ছিল।”
এছাড়া ফিগোকে নিয়ে ন্যু–ক্যাম্পের কুখ্যাত ম্যাচকে তিনি বলেন নিজের সবচেয়ে অপছন্দের অভিজ্ঞতা, কারণ দর্শকদের শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশ।
শেষদিকে তিনি জানান, ২০০৭ সালে প্রায় চেলসিতে যোগ দিচ্ছিলেন, কিন্তু চুক্তির মেয়াদ নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তা হয়নি।
ব্রাজিলের জাতীয় দল ও কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “আনচেলোত্তি যে কোনো ক্লাব বা দলে মানিয়ে নিতে পারেন। নেইমার, ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো—এদের নিয়ে ব্রাজিল বড় কিছু করতে পারে, যদিও বল দখলে না থাকলে সমস্যায় পড়ে।”
১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ইসাকের প্রথম লিগ গোল, লিভারপুলের চার ম্যাচ পর জয়
মহাসংকটে মোহামেডান, নির্বাচনী স্থবিরতায় খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত অনিশ্চিত