বুলগেরিয়ার সরকার সম্প্রতি ঘোষিত নতুন বাজেট পরিকল্পনা বাতিল করেছে। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাগরিকরা মূলত পরিকল্পিত কর বৃদ্ধির এবং সামাজিক খাতে বাজেট কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতের রাজধানী সোফিয়া এবং দেশের অন্যান্য শহরে ব্যাপক প্রতিবাদের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হওয়ার অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ হ্রাসের পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলও, ২০২৬ সালের বাজেট বুলগেরিয়ার জন্য প্রথম ইউরোতে প্রণীত বাজেট হবে। দেশটি আগামী ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন যোগ দিচ্ছে। তবে ইউরো গ্রহণের বিষয়ে জনমত বিভক্ত, অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এটি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আমরা জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে এবং একটি নতুন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সংকেত। তারা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে সরকারকে জনগণের সঙ্গে আরও সংলাপের পথ অনুসরণ করতে হবে এবং আগামী বাজেট প্রণয়নে জনগণের ভাবনাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেছেন, বাজেট বাতিলের ফলে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কিছুটা স্থগিত হতে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।
