বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পথচলায় আজ মঙ্গলবার হলো নতুন ইতিহাস। ত্রিদেশীয় সিরিজে জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল আজারবাইজানের। ম্যাচটি ২-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কোন দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচ হারলেও লড়াই করেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।
আজারবাইজানের র্যাংকিং ৭৪। বাংলাদেশের চেয়ে তারা ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে ঋতুপর্ণা-আফঈদারা খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না। আগের মতো এই ম্যাচেও হাই লাইন ডিফেন্স করেছে বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে বানিয়া ইশরাকের ক্রস থেকে অধিনায়ক জাফরজেদা গোল করেন। ফুটবলে গোল মানেই উল্লাস। তবে আজারবাইজান অধিনায়কের গোলের পর মাঠে তৈরী হয় আবেগঘন পরিবেশ। জাফরজেদা গোল করার পর একজনের ছবিসহ একটি সাদা টি-শার্ট সামনে ধরে সবাই পোজ দিয়েছেন। সেই কাপড়ে লেখা ছিল মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, 'মমস নেভার ডাই, ইউ আর অলওয়েজ ইন মাই হার্ট' অর্থাৎ 'মায়েরা কখনো মারা যান না, তুমি সবসময় আমার মনে আছো।' এরপর চোখে জয় ছিল জাফরজেদা। সতীর্থরা তাকে সামাল দিয়েছেন।
৩৩ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে বল নিয়ে গতিতে এগিয়ে এসে ঋতুপর্ণা মনিকার উদ্দেশ্যে সুন্দর পাস বাড়ান। একেবারে সামনে ছিলেন আজারবাইজানের গোলকিপার শরিফা আয়তাজ। কিন্তু মনিকার শট তিনি শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। পরের মিনিটেই মারিয়া মান্ডার দুর্দান্ত গোলে বাংলাদেশ সমতায় ফেরে। স্বপ্না রাণীর করা কর্ণার থেকে বল ক্লিয়ার করেন আজারবাইজানের গোলকিপার। তবে বলটি ডি বক্সেই থাকা মারিয়া মান্ডা পান। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত লব শটে বল জালে পাঠান মারিয়া মান্ডা। গোললাইনে আজারবাইজানের ডিফেন্ডার লাফিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি। প্রথমার্ধ সমতায় শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। তবে হচ্ছিলো না গোল। অবশেষে ৮৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় আজারবাইজান, গোলটি করেন মিডফিল্ডার মানইয়া ইসরা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
হামজা-জামালদের ম্যাচে এখন জাতীয় স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক থাকে। নারী দলের ম্যাচেও উল্লেখযোগ্য দর্শক উপস্থিতি ছিল। তারা মাতিয়ে রেখেছিলেন জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারী। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রিদেশীয় সিরিজও। বাংলাদেশ এর আগে হারে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ তে। আর আজারবাইজান দুটি ম্যাচেই জয় পেলো।
শামীমকে শেষ ম্যাচে খেলানো লিটন অংকনকে বললেন 'দুর্ভাগা'
যৌন হয়রানির অভিযোগ: জাহানারার কারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেছালো