যশোরে বাড়ছে এইডসের ভয়াবহতা। গত ১১ মাসে যশোর জেনারেল হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার ও খুলনা পপুলেশন (কেপি) সেন্টারে ৫ হাজার নারী পুরুষের রক্ত পরীক্ষায় ৪৯ জনের দেহে এইডস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃৃপক্ষ। এসময় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভির আক্রন্তের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। এর মধ্যে ১৭ শিক্ষার্থী, ৩ নারী, ১২ প্রবাসী ও ২০ সমকামী রয়েছেন। আক্রান্ত ৪৮ জনের ৩২ জন যশোর শহর ও সদর উপজেলায় বাসিন্দা।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর সুদেব কুমার জানান, বর্তমানে তাদের সেন্টার থেকে খুলনা বিভাগের ৯ জেলার ২৪৮ এইডস রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যশোর জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এইডসের সংক্রমণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯। তাদের ১২ জন বিবাহিত। আক্রান্ত ১২ প্রবাসীর ৩ নারী ভারত ও সৌদিআরব ফেরত। বাকি ৯ পুরুষ ভারত ও মালয়েশিয়া ফেরত। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশকারী, ভাসমান যৌনকর্মী, সহকামী ও কনডম ব্যবহারে অনিহাকারীদের কারণে এইডস মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। এতে করে সচেতন মহল, অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিভাগে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ১১ মাসে ৪৯ নারী পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার জন মারা গেছেন। আক্রান্তদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হয়। বিদেশ ফেরত, ভাসমান যৌনকর্মী, মাদকসেবী, হিজড়া ও সমকামীদের কারণে খুলনা অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এইডসের প্রাদুর্ভাব রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এইডসে আক্রান্ত দুই নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা হয়। প্রত্যেক গর্ভবতী ও গর্ভোত্তর মাকে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত নারী পুরুষকে হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
নখে সাদা অর্ধ চাঁদ: স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক
‘চিকিৎসকদের চেয়ে প্রভাবশালী আর কেউ নেই’
নির্জন ভিটা থেকে চা দোকানীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার