সারের দাবিতে লালমনিরহাটে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সারের সংকট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিন্দুর্না ইউনিয়নের বিসিআইসি পরিবেশক মেসার্স ওয়াছেক খান সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ভুট্টা মৌসুম শুরুর পর থেকেই এলাকায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে বিক্রয়কেন্দ্রে গেলেও সার পাচ্ছিলেন না তারা। অথচ রবিবার সকালে সার দেওয়া হবে—এমন ঘোষণা শুনে ভোর থেকেই কৃষকরা লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু কয়েকজনকে সামান্য সার দেওয়ার পর হঠাৎ বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় অভিযোগ ওঠে, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, তানজিলা আক্তার ও গোবিন্দ কুমারের সহযোগিতায় পরিবেশক খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং পরিবেশকসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেন।

চর সিন্দুর্না এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ১৪ দোন জমির ভুট্টার জন্য ইউরিয়া দরকার। কয়েক দিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু সার পাই না। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিলাররা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে।

অন্য কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, ডিলারের কাছে বারবার গেলেও সার পাই না। খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই দুর্নীতি আর সহ্য করা যায় না। সার সংকটে চাষাবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান কৃষকরা।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পর্যাপ্ত সার সরবরাহের আশ্বাস দিলে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।

ইউএনও শামীম মিঞা বলেন, একসঙ্গে অনেক কৃষক সার কিনতে আসায় চাপ বেড়ে গেছে। মজুদ কম থাকায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনলে সংকট তৈরি হতো না। চাহিদা কমলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

পরিবেশক মো. ওয়াছেক খান দাবি করেন, কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছাড়া সার বিক্রি করা হয় না। আমার ছেলেরা দোকান দেখাশোনা করে। অভিযোগ সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত