ফ্রান্সে বিবাহিত একটি জাপানি-ফরাসি সমলিঙ্গ দম্পতি তাদের বিয়েকে জাপানে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা জাপানে এটিই প্রথম। দম্পতিটি বলছেন, জাপানের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ফ্রান্সে পরিবার শুরু করতে পারছেন না।
আবেদনকারী দুজন হলেন ত্রিশের কোঠায় জাপানি নাগরিক রেই ওয়াতানাবে প্রসপার এবং ফরাসি নাগরিক কোরালি প্রসপার। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৩ সালে বৈধ হওয়ার পর তারা ২০১৮ সালে ফ্রান্সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
তারা অভিযোগ করেন, তাদের এই বৈবাহিক সম্পর্ককে জাপান স্বীকৃতি না দেওয়ায় রেই-এর নিজের দেশে একসঙ্গে বসবাস করতে পারছেন না। একইসঙ্গে ফ্রান্সে পরিবার গঠনেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে রেই বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের একটি দেশে আমরা আইনত পরিবার, কিন্তু অন্য দেশে আমাদের সঙ্গে বিদেশির মতো আচরণ করা হচ্ছে। এমন একটি পরস্পরবিরোধী অবস্থায় থাকাটা আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না।’
রেই জানান, ফরাসি আইন অনুসারে আন্তর্জাতিক দম্পতিদের ক্ষেত্রে, যদি দম্পতির এক পক্ষের দেশে সমলিঙ্গ বিয়ে স্বীকৃত না হয়, তবে সেই দম্পতি ফ্রান্সে সন্তান দত্তক নিতে পারে না।
চোখে জল নিয়ে রেই বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের যে সন্তান আসবে, তাদের কাছে আমরা যেন গর্ব করে বলতে পারি: ‘ফ্রান্স ও জাপান—দুটোই তোমাদের দেশ। আর দুই দেশেই আমরা তোমাদের পরিবার।’ এই অধিকার আমরা চাই।’
দম্পতিটির বিবাহের নিবন্ধন নথি আমাগাসাকি শহর গ্রহণ করতে অস্বীকার করার পর ২০২৩ সালে এই আবেদনটি দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি কোবে পারিবারিক আদালতের আমাগাসাকি শাখায় বিচারাধীন রয়েছে এবং আগামী বছর এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা।
আদালত যদি দম্পতির পক্ষে রায় দেয়, তবে আইন সংশোধন ছাড়াই দেশের বিদ্যমান বিবাহ আইনের অধীনেই তারা দাম্পত্যের মর্যাদা পেতে পারেন।
জাপান এখনো সমলিঙ্গ বিবাহের অনুমতি দিয়ে কোনো জাতীয় আইন প্রণয়ন করেনি। কিছু স্থানীয় সরকার কেবল অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা চালু করেছে। যদিও ২০২১ সাল থেকে একাধিক জেলা ও উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে, সমলিঙ্গ দম্পতিদের বিবাহ থেকে বাদ দেওয়া সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের সমতার নিশ্চয়তার লঙ্ঘন।
তবে ২৮ নভেম্বর টোকিও হাইকোর্ট সমলিঙ্গ বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞাকে সাংবিধানিক বলে রায় দেয়, যা জাপানের এলজিবিটিকিউ+ গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
দম্পতিটির আইনজীবী তাকেরু ইতো জানান, তাদের পক্ষে একটি সফল রায় সমলিঙ্গ বিবাহে জাপানের নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিকতা নিয়ে চলমান মামলাগুলোর থেকে এটিকে আলাদা করবে। কারণ চলমান মামলাগুলো মূলত বিধিবদ্ধ নিষ্ক্রিয়তা (আইনি কাঠামো তৈরিতে সরকারের ব্যর্থতা) সংবিধান লঙ্ঘন করে কি না, সেটির ওপর আলোকপাত করে।
আইনজীবী দলের প্রধান মিয়াকো মিয়াই বলেন, ‘অন্যান্য মামলাগুলোতে বাদীরা জিতলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমলিঙ্গ বিবাহ কার্যকর হবে না। আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সমলিঙ্গ দম্পতিদের হয়তো আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।’
এই সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করেই দম্পতিটির আইনি দল ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সরাসরি পারিবারিক আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন, যেখানে আমাগাসাকি শহরকে দম্পতির বিবাহের নিবন্ধন গ্রহণ করার আদেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রেই বলেন, ‘আমার জন্য, আমার স্ত্রীর জন্য, যে সন্তানের স্বপ্ন আমরা দেখি তাদের জন্য এবং জাপানের সকল এলজিবিটিকিউ মানুষের জন্য, আমি আন্তরিকভাবে আশা করি আমাদের বিয়ে উভয় দেশে স্বীকৃত হবে, যাতে ভালোবাসার জয় হয় এবং তা সুরক্ষিত থাকে।’
পঞ্চগড়ে টানা ৫দিন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে
আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ 