কলকাতার বিশৃঙ্খল অভিজ্ঞতার পর হায়দরাবাদে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন লিওনেল মেসি। কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের উপ্পালের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সামনে স্মরণীয় এক ‘মেসি সন্ধ্যা’ উপহার দিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি।
GOAT India Tour 2025–এর দ্বিতীয় পর্বে উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ ও আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে হায়দরাবাদে আসেন মেসি। স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বল জাগলিং, গোলের দিকে শট, এমনকি গ্যালারিতে ফুটবল ছুড়ে দিয়ে দর্শকদের আনন্দে ভাসান বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক।
সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল সাতজনের প্রদর্শনী ম্যাচ ‘গোট কাপ’। ম্যাচে অংশ নেয় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভান্থ রেড্ডির নেতৃত্বাধীন ‘টিম আরআর-৯’ এবং ‘আপর্ণা–মেসি অল স্টারস’ দল। শুরুতে ভিআইপি গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করেন মেসি, সুয়ারেজ ও দে পল। পরে মাঠে নেমে দর্শকদের উল্লাসে মাতান মেসি।
ম্যাচ চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি নিজ দলের হয়ে মাঠে নেমে একটি গোলও করেন। তখন স্কোরলাইন ছিল আরআর-৯ দলের পক্ষে ৪–০। পরে মেসি অল স্টারসের হয়ে খেলতে নামেন এবং তার নিখুঁত টাচ ও ড্রিবলিংয়ে স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় গর্জন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় টাইব্রেকার পেনাল্টি শুটআউটে।
স্ট্যান্ডে বসে খেলা উপভোগ করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, যিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড় ও অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলেন মেসি ও মুখ্যমন্ত্রী রেড্ডি—বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের আরেকটি হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত ছিল শিশুদের সঙ্গে মেসির সময় কাটানো। সুয়ারেজ, দে পল ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছোট ছোট রন্ডো, পাসিং ড্রিল এবং ফুটবল কৌশলে অংশ নেন মেসি। শিশুদের উদ্দেশে তার হাসিমুখ আর সহজ ব্যবহার দর্শকদের করতালিতে ভাসায় স্টেডিয়াম।
শেষ দিকে মাঠজুড়ে ঘুরে দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান মেসি। সুয়ারেজ ও দে পলের সঙ্গে ল্যাপ অব অনার দেন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মেসি বলেন, “মুচাস গ্রাসিয়াস”—ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জানান, ১৪ বছর পর আবার ভারতে ফিরে তিনি ভীষণ আনন্দিত।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলকে ‘গোট কাপ’ ট্রফি তুলে দেন মেসি নিজেই। পাশাপাশি ভারত সফরের স্মারক হিসেবে তাকে একটি বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়। পরে অতিথি ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলে বিদায় নেন এই তিন আর্জেন্টাইন তারকা।
মাঠে খেলার আগে তেলেগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় শিল্পী রাহুল সিপলিগঞ্জ ও মাংলির সংগীত পরিবেশনায় দর্শকরা বাড়তি আনন্দ পান। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর মেসি স্টেডিয়ামে পৌঁছালেও পুরো আয়োজন শেষ হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।
