কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেসি: মহানায়কের ট্র্যাজিক বিদায়

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ এএম

বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্রফি স্পেনের হাতে উঠলেও, ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে ম্যাচ শেষের অন্য একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর যখন গ্যালারিজুড়ে স্প্যানিশদের উৎসব, তখন মাঠের একদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েন আধুনিক ফুটবলের মহানায়ক লিওনেল মেসি।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে রানার্স-আপের রুপার মেডেলটি গ্রহণ করার পরপরই নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বুকচাপা কষ্ট আর হতাশায় ডুকরে কেঁদে ওঠেন এই মহাতারকা। ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হেরে যেভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, ২০২৬-এর ১৯ জুলাই রাতে যেন সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটল।

তবে ১০ বছর আগের সাথে এবারের কান্নার তফাত ছিল অনেক। ২০১৬ সালের সেই রাতে মেসি ডাগআউটে সম্পূর্ণ একাকী বসে কাঁদছিলেন, যেখানে ছিল অবসাদের ছায়া। কিন্তু এবার লিওনেল মেসি বুকভরা গর্ব নিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের মুখোমুখি দাঁড়ালেন।

মেসিকে কাঁদতে দেখে গ্যালারিতে উপস্থিত পুরো আলবিসেলেস্তে জনসমুদ্র "লিও, লিও" স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলে। প্রিয় আইডলকে তারা ট্রফি ছাড়াই রাজকীয় অভিবাদনে সিক্ত করে। মেসিও মেডেলটি বুকে নিয়ে পেনাল্টি বক্সের প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভক্তদের সেই ভালোবাসার জবাব দেন।

কাদছেন মেসি

"আমরা দেখিয়েছি যে আমরা পরাজয়েও মহান"

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ও দলের খেলোয়াড়দের এমন সংযত আচরণের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি এই মন্তব্য করেন।

নেতার দেখানো পথেই একে একে বাকি খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে ফিরে আসেন। ভক্তদের অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মেসির পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েন রদ্রিগো দে পলও। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো ফাইনাল হারার ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি দে পল। গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে চশমা চোখে জল মুছতে দেখা যায় এই মিডফিল্ডারকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত