হাতিয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে ঠিকাদার নিয়োগের অভিযোগ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পণ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে এবং আদালতের কারণ দর্শানোর আদেশ অমান্য করে নতুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. ফরিদ উদ্দিন নোয়াখালী সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

​আবেদন সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার মো. ফরিদ উদ্দিন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পথ্য সরবরাহের কার্যাদেশ পান। কাজ চলাকালীন সময়ে হাসপাতালে বাবুর্চি ও বাবুর্চি সহকারী না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিজ খরচে লোক নিয়োগ দিয়ে তিনি সেবা চালু রাখেন।  

বাবুর্চির ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার প্রায় তিন লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেননি। ঠিকাদার ফরিদ উদ্দিন তার পাওনা টাকার পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে বার বার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।

​ঠিকাদার ফরিদ উদ্দিন জানান, তার মেয়াদের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নতুন অর্থবছরের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেন। ​এই বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি  হাতিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ১৮ নভেম্বর ইউএইচএফপিওকে ৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।

​ঠিকাদার ফরিদ উদ্দিন আরো জানান, ইউএইচএফপিও আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিয়ে এবং সময় প্রার্থনা করে কালক্ষেপণ করেন। আদালত বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে নতুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। সেখানে আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে তাকে সরকারি মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ এবং ‘আদালত অবমাননা’ উল্লেখ করে ঠিকাদার ফরিদ উদ্দিন সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বকেয়া পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নতুন কার্যাদেশ বাতিল করার দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মানসী রানী সরকার বলেন, আমাদের উকিল আদালতের আদেশ বিধি মোতাবেক উপস্থাপন করেছেন। কোর্ট থেকে কোন প্রকার স্থগিতাদেশ দেয়া হয়নি। সরকারি বিধি মোতাবেক আমাদের অফিস থেকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর  সিভিল সার্জন ডা: মরিয়ম সিমির ব্যবহৃত অফিস নাম্বারে একাধিকবার কল করেও মোবাইল রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত