আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় সহযোগিতা চেয়েছিল প্রথম আলো

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম

প্রথম আলো অফিস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাওয়ায় এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীসহ নানা মহলের সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা পৌঁছানোর আগেই অফিস আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে।

আজ (১৯ নভেম্বর) ৪.৫৭ মিনিটে ‘প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নিয়ে প্রথম আলোর বক্তব্য’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেদনার সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর অফিস উদ্দেশ্য–প্রণোদিত ও সংগঠিত আক্রমণের শিকার হয়েছে। আক্রমণকালে কর্মরত সাংবাদিকেরা অনলাইন সংবাদ–পোর্টাল চালানোর পাশাপাশি ১৯ ডিসেম্বরের কাগজ প্রকাশের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রথম আলোর কর্মীরা এই সন্ত্রাসী হামলার মুখে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন এবং জীবনের ঝুঁকিতে পড়ে যান।

প্রথম আলো অফিস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আলো অফিস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাওয়ায় এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীসহ নানা মহলের সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই অফিস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কর্মরত উদ্বিগ্ন সাংবাদিক ও কর্মীরা জীবন বাঁচাতে কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। আইন–শৃঙ্খলা ও দমকল বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিসের ভবন ব্যাপকভাবে ভাঙচুরের পরে তাতে অগ্নিসংযোগ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অগ্নিকাণ্ডের কারণে ভবন পুড়ে যায় এবং তাতে সংরক্ষিত সম্পদ ও মূল্যবান নথিপত্র ভস্মীভূত হয়। যার ফলে প্রথম আলো প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরের ইতিহাসে, কোনো সংবাদপত্র–জনিত ছুটি বাদে, পত্রিকাটি এই প্রথম আজ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে প্রথম আলো অনলাইনের কার্যক্রমও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখতে হয়।

এসময় প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ও সন্ত্রাসী আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নি–সংযোগের কথাও বলা হয়। 

প্রতিবেদনটিতে দিনটিকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য কালো দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে শুধু আগামী নির্বাচনকে পথভ্রষ্ট করার প্রচেষ্টাই চালানো হয়নি, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিসরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করারও লক্ষ্য ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত