বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান রাকসু জিএস আম্মারের

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান করে উত্তপ্ত মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। 

গতকাল রোববার শিক্ষক নেটওয়ার্কের ছাত্র সংসদগুলোর ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় রাকসু জিএস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

শিক্ষক নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত বন্ধ হোক’ শীর্ষক বিবৃতির মন্তব্যে সালাহউদ্দিন লিখেন, ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি’। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আজ রাতে দেওয়া আরেক পোস্টে লিখেন, ‘শহীদ হাদি চত্বরে স্লোগান দিচ্ছি, "তুমিও জানো, আমিও জানি, শাহাবাগীরা হিন্দুস্থানি"। আর পুড়তেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গু সমাজের নিতম্ব। সালাহউদ্দিন আম্মার ডিন পদত্যাগ করাইয়া ৫দিন ঢাকায় অবস্থান করতেছে, ওনাদের এখন ঘুম ভাঙলো আর অতৎপরতা বন্ধের আহবান জানাইলো।’

ফেসবুকের ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি বামদের আর ভারতকে বলা কথা কখনো উইথড্র করিনা। আমারটা অতৎপরতা হলে আপনাদেরটাও আমি অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখি, কারন আওয়ামীপন্থীদের নামানো অতৎপরতা তাদের কাছে যারা তাদের দালাল।’

রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ-আল মামুনের রাকসুর নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মন্তব্য সম্পর্কে আম্মার বলেন,  ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক তাদের খলিফা আল মামুন সাহেবের অতৎপরতার বিবৃতি দেয়নি কেনো?

তখন চেতনা হাফপ্যান্ট পরে মদ খাইতে চাইতেছিলো?’

তবে অধ্যাপক আ-আল মামুন তার ফেইসবুকের পোস্টটি কয়েক মিনিটের ভেতরেই সরিয়ে নেন। তার মন্তব্য ঘিরে সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক মামুন এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ছাত্রদলকে উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘দুইটি সংগঠন এর বিবৃতির পর প্রশ্ন রেখেছি- বিএনপির শিক্ষকরা ছাত্রদল সভাপতি উপাচার্যকে চেয়ারসহ পদ্মা নদীতে ফেলে দিতে চাইছিলো তখন বিবৃতি দেয়নাই কেনো? তারটা অতৎপরতা না?’

এ দিকে রাকসু জিএসের শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বানের  মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ রেজা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কে বন্ধ করবে? দুঃসাহস কার? শিক্ষক নেটওয়ার্কের জন্ম ২০২৪ সালের আগস্টের পরে নয়, নেটওয়ার্কের জন্ম ২০১৪ সালে। আওয়ামীরাও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি। এই নেটওয়ার্ক তার নাম-পরিচয় লুকিয়ে নিজেদের কার্যক্রম কখনো পরিচালনা করেনি। জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার কথা গোটা দেশবাসীর জানা আছে!’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মাহাইর ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কোথাকার কোন ধইঞ্চা ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নিয়ে কথা বললো, আর নেটওয়ার্কের লোকজন তার প্রতিউত্তরে নিজেদেরকে ডিফেন্ড করা শুরু করলো! আজব, এসবের আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? শিক্ষক নেটওয়ার্কের লোকজনের কয়েকবছরের ত্যাগ ও তিতিক্ষার কাছে ওর মতো কয়েকশো ধইঞ্চাকে বহুবার বিক্রি করা যাবে! আপনারা কেন এই ধইঞ্চাকে আমলে নিচ্ছেন!’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের নামে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য সালাহউদ্দিন আম্মারকে ক্ষমা চাইতে হবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল লিখেছেন, ‘ইতরদের স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল হয়। এরা ভুলে গেছে ১ আগস্ট গ্রেফতার আতঙ্কে কর্মসূচি পালনের মুরদ ছিল না। সেদিন এই শিক্ষক নেটওয়ার্কের মৌনমিছিলকেই রাজশাহীর কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সাদা পোষাকের পুলিশ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের জন্য ধস্তাধস্তি করলে, এই শিক্ষকরাই ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। সেই সাহসিকতার মোমেন্টাম রাজশাহীসহ সারাদেশের আন্দোলনকে আবার চাঙ্গা করে। এদের না আছে শ্রদ্ধা, পরমতসহিষ্ণুতা; না আছে সম্মানবোধ। কতগুলো আধিপত্যকামী, ফ্যাসিস্ট জুলাইয়ের হর্তাকর্তা সেজে বসে আছে।’

এর আগে গতকাল রোববার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের তৎপরতার পটভূমিতে শিক্ষক নেটওয়ার্কের এ বিবৃতি আসে। 

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা ধরনের মবপ্রবণতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানিমূলক তৎপরতার কথা বিবৃতিতে তুলে ধরে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। রাকসুর নেতাদের এ ধরনের আচরণ সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর হামলা বলেও মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এর ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ সারা দেশের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহেও পড়েছে বলে তাদের মত। এ ধরনের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন আম্মার ওই মন্তব্য করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত