ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মফেনী জেলার দাগনভূঞা পৌরসভার আলাইয়াপুর এলাকার এ বাসিন্দা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা।
তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা। তারমধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ৩৩৩ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ টাকা এবং অস্থাবর ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ৪০১ টাকা। হলফনামায় দেশের বাহিরে থেকে তার কোনো আয় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত তথ্যের স্থলে ২০২৫-২০২৬ কর বছরে তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৯ টাকা। আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ১২ লাখ ১৬ টাকা। বিপরীতে তিনি আয়কর প্রদান করেছেন ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১৬ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নিজের নামে কোনো ঋণ নেই। তবে তার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৯৪ কোটি টাকা ঋণ দেখিয়েছেন তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের হলফনামায় স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৮ টাকা। তারমধ্যে স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৬ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৩৯ হাজার ১২ টাকা।
এছাড়া ২০২৫-২০২৬ কর বছরে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ টাকা। আয়ের পরিমাণ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩১৮ টাকা। আয়কর প্রদান করেছেন ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৪ টাকা।
এরমধ্যে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরের তৈরি গহনার বিপরীতে (অধিগ্রহণকালে মূল্য) আয়কর বিবরণীর আইটি-১০বি মোতাবেক নিজের নামে মাত্র ২ লাখ টাকার ও স্ত্রী নাছরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে দেখিয়েছেন ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৬৭৮ টাকার স্বর্ণালংকার।
অন্যদিকে নির্বাচনী হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের তিন পুত্র সন্তানের সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ কর বছরের তথ্য দিয়েছেন। এতে বড় ছেলে তাবিথ আউয়ালের রিটার্নে সম্পদ দেখানো হয়েছে ৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৭ টাকা। আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৬ টাকা। পদত্ত আয়করের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ১৭৩ টাকা।
মেঝো ছেলে তফসির মোহাম্মদ আউয়ালের সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪৯ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৩২২ টাকা। আয় দেখিয়েছেন ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৫ টাকা। প্রদত্ত আয় করের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। ছোট ছেলে তাজোয়ার মোহাম্মদ আউয়ালের সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা। আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৬২৯ টাকা। প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৫ টাকা।
তাছাড়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন স্নাতকোত্তর।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর সিএমএম আদালতে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭ ধারায় ধানমন্ডি থানার একটি মামলা রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। যা হাইকোর্ট বিভাগের ৪/১১/২০০৭ এর আদেশ মোতাবেক অত্র মামলায় জামিনপ্রাপ্ত এবং পরবর্তী কার্যক্রম উপরোক্ত আদেশ মোতাবেক স্থগিত রয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ২৬টি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সবকয়টিতে নিষ্পত্তি ও অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামায় তিনি আরও উল্লেখ করেছেন এর আগে দ্বৈত নাগরিকত্বাধারী ছিলেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন।
