পাকিস্তান থেকে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার খাজা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে এক আলোচিত নাম উসমান খাজা। জন্ম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। তার চার বছর বয়সে বাবা তারিক খাজা ও ফৌজিয়া খাজাপাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। প্রায় ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানাচ্ছেন সিডনিতে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট দিয়ে। আজ শুক্রবার পরিবারকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বিদায়ের ঘোষণা দেন।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশেই কুক রোডে বেড়ে উঠেছিলেন খাজা। ক্রিকেটের পাশাপাশি তার তুমুল আগ্রহ ছিল বিমান চালনায়। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এ বিষয়েই তিনি পড়াশোনা করেছেন। রীতিমতো সনদপ্রাপ্ত পাইলট তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন ক্রিকেটকে। ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে খাজার টেস্ট অভিষেক হয়। সিডনিতে অনুষ্ঠিত ওই টেস্ট হেরে অ্যাশেজ খুঁইয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

খাজার অভিষেকটাও হয়েছিল নাটকীয়ভাবে। মূলত চোট পাওয়া রিকি পন্টিংয়ের বদলি হিসেবে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলে জায়গা পাকা করতে তার অনেক সময় লেগে যায়। প্রথম ৬ টেস্টে মাত্র একটি ফিফটি করার পর বাদ পড়েছিলেন। ২০১৩ সালের অ্যাশেজ দিয়ে আবার তিনি জাতীয় দলে ফেরেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন টেস্টে একটি ফিফটি করার পর আবারও বাদ পড়েন।

এদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছিলেন খাজা। তাই তাকে আবার ফেরানো হয় টেস্ট ক্রিকেটে। ২০১৫ সালে তিনি ফিরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটেছে তার ক্যারিয়ার। ৮৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৩.৩৯ গড়ে করেছেন ৬ হাজার ২০৪ রান। সেঞ্চুরি করেছেন ১৬টি, ফিফটি ২৮টি। মজার ব্যাপার হলো, অর্ধেকের বেশি রানই (৩ হাজার ৩১৯) করেছেন তিনি ৩৫ বছর বয়স পেরিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা বলেও তার রেকর্ড খুব একটা খারাপ নয়। ৪০ ওয়ানডেতে ৪২ গড়ে করেছেন ১ হাজার ৫৫৪ রান। হাঁকিয়েছেন ২ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটি। ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলে করেছেন ২৪১ রান। স্ট্রাইক রেট ১৩২.৪১ আর ফিফটি করেছেন ১টি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০১৬ সালে আর ২০১৯ সালে খেলেন সর্বশেষ ওয়ানডে। এরপর থেকে টেস্ট ক্রিকেটই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান।

বিদায় বেলায় খাজার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অসাধারণ অর্জনের মাধ্যমে উসমান বিশাল অবদান রেখেছে। ১৫ বছর আগে অভিষেকের পর থেকে আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও দৃঢ়চেতা ব্যাটসম্যানদের একজন ছিল সে। এছাড়া মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও সে দারুণ অবদান রেখেছে। সে যা কিছু অর্জন করেছে, সবকিছুর জন্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত