কালিয়াকৈরে বসত-বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর, আহত ৬

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বসত-বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে জমি জবর-দখলের চেষ্টা এবং লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের হামলায় স্বামী-স্ত্রী ও মাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারটি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা পূর্বপাড়া এলাকার সোনা মিয়া, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, মা আছিয়া বেগম, মেয়ে মীম আক্তার, ভাই চান মিয়া, ভাইয়ের স্ত্রী শাহিদা সুলতানা।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা পূর্বপাড়া এলাকার সোনা মিয়া গং একই এলাকার ইদ্রিস আলীর বাবা আব্দুল কাদের গংদের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে অল্প কিছু জমির মালিক হন। পরে বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ইদ্রিস আলী সেখানে আরও ৫ শতাংশ জমি আছে দাবী করে প্রথমে আরিফুল ইসলামের সাথে ৬০ লক্ষ টাকা বায়না করেন। পরে ওই বায়নার টাকা ফেরত না দিয়ে স্থানীয় মৌচাক ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সোহেল রানাদের কাছে বিক্রি করেন ইদ্রিস। এর একদিন পর ইদ্রিস আলী ওই জমি পুনরায় আরিফুলকে দলিল করে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এসব কারণে ওই জমির ওপর ১৪৫ জারি করা নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই মৎস্যজীবী নেতা সোহেলের নেতৃত্বে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০/২৫ জনের একটি বাহিনী বসত-বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ভিতরে  ঢুকে সরকারের দেওয়া সাম্বারসিবল মোটরের পাইপ, ট্যাংকি, ঘরের দরজা, জানালা, টিনের বেড়া, পাতিল, টয়লেট, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ফেলে হামলাকারীরা। এসময় তারা ওই বসতবাড়িতে লুটপাট করে। এতে বাধা দিতে গেলে সোনা মিয়া, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, মা আছিয়া বেগম, মেয়ে মীম আক্তার, ভাই চান মিয়া, ভাইয়ের স্ত্রী শাহিদা সুলতানাকে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে মধ্যে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ওইদিন রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ খবর পেয়ে ওই মৎস্যজীবী নেতাও পাল্টা আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।

হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত স্থানীয় মৌচাক ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সোহেল রানা জানান, তারা নিজেরাই তাদের বসতবাড়িতে ভাংচুর করে আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার এএসআই উজ্জ্বল মিয়া জানান, এ ঘটনায় থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত