গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাৎসরিক ছুটির দাবিতে রবিবার সন্ধ্যার পরেও আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। ফলে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মন্ডল গ্রুপের ট্রপিক্যাল নীটেক্স লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে বাৎসারিক ছুটির টাকার জন্য কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। তাদের আন্দোলনের মুখে সেদিন ৭৫ ভাগ ছুটির টাকা দেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শ্রমিকরা কম টাকা মেনে না নিয়ে শতভাগ ছুটির টাকার পরিশোধের জন্য বিক্ষোভ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ রোববার সকালের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিলে সেদিনের মতো কাজে যোগদান করেন শ্রমিকরা। কিন্তু রবিবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান না করায় বেলা ২টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় আধা ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে কারখানার ভেতর বিক্ষোভ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ফের মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এক পর্যায় তারা ওই মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই মহাসড়কে থাকা একটি ট্রাক ভাঙচুর করেন। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, আমাদের সারা বছরের ছুটির টাকা, লাভের অংশ পরিশোধ করার কথা। সেখানে তারা শুধু ছটির টাকা পরিশোধ করে তালবাহানা করে। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা আমাদের চাকরির হুমকি দেয়। আমরা ছুটির টাকার সাথে লাভের অংশ চাই। আমাদের সব পাওনা পরিশোধ করার কথা থাকলেও টাকাটা পরিশোধ করছেন না।
কারখানার ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় কথা বলতে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর ওসি আজাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
