রূপগঞ্জে ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিককে হুমকি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে এক ইউপি সদস্য দৈনিক মানবকণ্ঠের সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে বিভিন্ন সময় তিনি হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া তাকে ফোন করে নিজেকে ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় গালাগালাজ করতে নিষেধ করলে কাউসার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে কাউসার আওয়ামী লীগের সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাউসার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কাউসার মিয়া ও তার বাবা আব্দুর রশিদ চারিতালুক গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম ছিলেন। অবৈধভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্মে তারা জড়িত ছিলেন। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। গত ৫ আগস্টের পর কাউসার মিয়া দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে কথা বলেছি, তবে কাউকে গুম বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত