অস্ত্রধারী দেহরক্ষী পেলেন চরমোনাই পীর-জোনায়েদ সাকি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ এএম

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছিলেন প্রায় ২০ জন রাজনীতিবিদ। এর মধ্যে বুধবার (৭ জানুয়ারি) তিনজনের জন্য অস্ত্রধারী দেহরক্ষী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যাদের দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে তারা হলেন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং মেহেরপুর-১ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ অরুণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ না নেওয়াকে এ সিদ্ধান্তের কারণ বলে জানা গেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের (হিরু) আবেদনও নাকচ করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে তাদের নিরাপত্তাঝুঁকি নেই বলে মত দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনীতিবিদের দেহরক্ষীর জন্য আবেদন বাড়তে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র বা দেহরক্ষী দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আসলেই নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে কি না, তা গোয়েন্দা সংস্থার মতামতসহ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ঢালাওভাবে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী দেওয়া হবে না। নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেহরক্ষী দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জানা গেছে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক দেহরক্ষী ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া বিএনপি মনোনীত বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা মুনতাসির মাহমুদও নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছেন।

মুনতাসির মাহমুদ জানান, তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি দেহরক্ষী চেয়েছেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আকতার হামিদ পবন নিজের নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত