ভারতে ধর্মীয় ঘৃণাজনিত অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মুসলমানদের পাশাপাশি দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও ক্রমশ হামলা ও বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। নতুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির প্রভাবে দেশে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ আরও গভীর হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ)-এর প্রকল্প ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে,২০২৫ সালে ভারতে মোট ১৩১৮টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন তিনটিরও বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খ্রিস্টানবিরোধী বক্তব্য ও উসকানি আগের বছরের তুলনায় চল্লিশ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মুসলমানরা এখনও প্রধান লক্ষ্য হলেও বিশ্লেষকদের মতে, খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ দ্রুত তীব্র হচ্ছে।
বড়দিনের আগের দিন মধ্য ভারতের রায়পুর শহরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-ঘনিষ্ঠ কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলো তথাকথিত 'জোরপূর্বক ধর্মান্তর'-এর অভিযোগ তুলে ধর্মঘটের ডাক দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে বাস্তব প্রমাণ খুবই সীমিত। একই দিনে লাঠিসোঁটা হাতে একদল ব্যক্তি একটি শপিংমলে ঢুকে বড়দিনের সাজসজ্জা ভাঙচুর করে এবং উদযাপন ব্যাহত করে। পুলিশ বহু হামলাকারীকে শনাক্ত করলেও অল্প কয়েকজনকে সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের প্রকাশ্যে সংবর্ধনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশের কিছু বেশি খ্রিস্টান, মুসলমান প্রায় চৌদ্দ শতাংশ এবং হিন্দু প্রায় আশি শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'জোরপূর্বক ধর্মান্তর'সহ নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়া হচ্ছে, যদিও আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী বহু দশক ধরে খ্রিস্টান জনসংখ্যা তিন শতাংশের নিচেই রয়েছে। রায়পুরে সহিংসতার আশঙ্কায় বড়দিনে গির্জা ও খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়ার পরামর্শ দিতে হয়েছে স্থানীয় চার্চ কর্তৃপক্ষকে, যা পরিস্থিতির গুরুতর রূপ তুলে ধরে।
