হ্যান্ডবল অঙ্গনে পঞ্চগড়ের মেয়েদের বেশ কদর। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে প্রায় সব দলেই দেশের সর্বোউত্তরে জেলার সর্বেশষ শেষ উপজেলা তেতুলিয়ার মেয়েদের আধিক্য। মেয়েদের মতো সেই তেতুলিয়ার যুবারা এবার সেরা হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় যুব পুরুষ হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হয়েছে পঞ্চগড় জেলা দল। যে দলটির সব খেলোয়াড়ই এসেছেন তেতুলিয়া থেকে। একপেশে ফাইনালে তারা ঢাকাকে হারিয়েছে ৩৬-২৩ গোলে। প্রথমার্ধের পঞ্চগড় এগিয়ে ছিল ১৮-৯ গোলে। এর আগে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যশোরকে ২৭-২৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে কুষ্টিয়া।
পুরো প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেলা উপহার দেওয়া ঢাকা ফাইনালে এসে খেই হারিয়ে ফেলে মূলত পঞ্চগড়ের তরুণদের গতি, ফিটনেস ও কৌশলের কাছে। তেঁতুলিয়ায় হ্যান্ডবলের বিপ্লব ঘটানোর কারিগর নাইমুল ইসলাম রুবেল। এক সময় জাতীয় দলে খেলা এই কোচের চেষ্টা ও তেঁতুলিয়ার তরুণদের অদম্য ইচ্ছেশক্তির কারণেই মিলেছে সেরার স্বীকৃতি। সেখানে কোচ হিসেবে বেতন দূরে থাক, উল্টো পকেটের টাকা খরচ করতে হয় রুবেলকে। খেলোয়াড়রাও নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে বছরব্যাপী অনুশীলন করেন শুধু মাত্র বছরে এক-আধবার জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেতে। ২০২৩ সালে যুব হ্যান্ডবলে খেলতে এসে দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ে গিয়েছিল পঞ্চগড়। এরপর থেকেই তরুণদের মধ্যে জেদ তৈরী হয়। নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলেন তেঁতুলিয়া হ্যান্ডবল অ্যাকাডেমি। কোচ রুবেলের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে দু'দিন অনুশীলন চলে একঝাক তরুণের। এছাড়া কোন জাতীয় আসর সামনে আসলে নিজ খরচায় তারা তৈরী হন। বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায় তাদের আসতে হয় নিজের পয়সায় অথবা এর-তার কাছ থেকে সহায়তা ভিক্ষা করে। এবারও পঞ্চগড় এসেছে নিজ খরচায়। তবে আসার আগে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে একটা প্রতিশ্রুতি অবশ্য পেয়েছেন কোচ রুবেল। এখন শিরোপা জয়ের পর নিশ্চয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা এগিয়ে আসবেন এই তরুণদের এগিয়ে নিতে।
কোচ কোচ বলেন, 'প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গত তিন বার খুব কাছে গিয়েও পারিনি। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অনুশীলন করতে হয়েছে। আমাদের ট্রেনিং সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সময়ের অভাব। ফেডারেশন থেকে যা সহযোগিতা পেয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করি। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা পেলে আরও ভালো ভালো করব।'
আসরের সেরা হয়েছে পঞ্চগড়ের রাতুল উদ্দিন। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা রাতুল ডাক পেয়েছেন সিনিয়র দলের ক্যাম্পে। তবে এখনও শীর্ষ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি তার। সমাজের সকলের কাছে রাতুলের চাওয়া একটাই, 'সবাই যদি আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, দেখবেন একদিন তেঁতুলিয়া হবে দেশের হ্যান্ডবলের বড় পাইপলাইন। এই শিরোপা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।'
ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান তানভীর কনস্ট্রাকশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহম্মেদ।
