টসের সময় দুই দলের দুই প্রতিনিধির হাত না মেলানো দিয়ে শুরু হলেও শেষে হাত মিলিয়েছে দুই দলের সব খেলোয়াড়ই। তাই বলা যায়, রাজনীতির আঁচ এখনো খেলোয়াড়দের গায়ে গিয়ে লাগে নি। তবে মাঠে তাদের শরীরী ভাষা, উচ্ছাস বলে দিচ্ছিল ম্যাচটা পরীক্ষা নিচ্ছে স্নায়ুর। বুলাওয়েতে, অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ১৮ রানে হেরে গেছে ভারতের কাছে।
ম্যাচ শুরুর আগের বৃষ্টিতে ভেজা মাঠ।খেলা সময়মত শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় কেটে যায় মাঠকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারত যেতে না চাওয়া...সব মিলিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যখন সবচেয়ে তিক্ত, তখন সুদূর আফ্রিকায় দুই দেশের তরুনদের বিশ্বকাপে দেখা। বৃষ্টির কি সাধ্য এই আগুন নেভায়? যে আগুন ছিল আল ফাহাদের বলে। বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে।
আজিজুল হাকিম তামিমদের দলটা যেদিন শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে খেলতে যাবার অফিশিয়াল ফটোসেশনে আসে, সেদিন অধিনায়ক, কোচ, স্পিন বোলিং কোচ সহ অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সবারই প্রশ্ন ছিল ভারত ম্যাচ নিয়ে, বিশেষ করে সূর্যবংশীকে নিয়ে। সবাই প্রায় একই উত্তর দিয়েছেন, যে তাকে নিয়ে আছে বিশেষ পরিকল্পনা। তবে সূর্যবংশীর মত ব্যাটসম্যানকে যে পরিকল্পনা দিয়ে আটকানো যায় না, সেটা ফের দেখিয়েছেন এই বিষ্ময় বালক। একদিকে যখন একের পর এক উইকেট পড়ছে, তখন সূর্যবংশী চার ছয় মেরেই যাচ্ছেন। ইনিংসের শুরু থেকে একপ্রান্ত আগলে রাখা সূর্যবংশী আউট হয়েছেন ৬৭ বলে ৭২ রান করে, ৬ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কা মেরে। ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেছেন অভিজ্ঞান কুন্ডু, ১১২ বলে ৮০ রানের ইনিংস। মধ্যবিরতিতে বলছিলেন, 'বৈভব আমাকে বলেছেন প্রথমে ৫০টা বল খেলে নিতে, তাতে ১০ রান আসলেও যেন ধৈর্য না হারাই। পরের মারার সুযোগ আসবে'। প্রথম ৫১ বলে ১৯ রান নিয়েছেন অভিজ্ঞান, পরের ৬১ বলে ৬১। বৃষ্টিতে কমে আসা ৪৯ ওভারের প্রথম ইনিংসে ভারত অলআউট ২৩৮ রানে,৩৮ রানে ৫ উইকেট আল ফাহাদের।
বৃষ্টির কারণে মধ্যবিরতিটা হয়েছে সংক্ষিপ্ত। জাওয়াদ আবরার আর রিফাত বেগ শুরুটা ভাল করতে পারেননি। জাওয়াদ প্রথমওভারেই বিদায় নেন ৫ রান করে। এরপর রিফাত আর অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন। রিফাত৩৭ রানে আউট হওয়ার পর আসেন কালাম সিদ্দিকি। তার সঙ্গে তামিম জুটি বেঁধে ভালই সামাল দিচ্ছিলেন পরিস্থিতি, এমন সময় নামে বৃষ্টি। খেলা পরিত্যক্ত সবার শঙ্কা জাগলেও বেশ খানিকটা সময় পর খেলা শুরু হয়। ১৭.২ ওভারে খেলা থেমেছিল, এরপর যখন শুরু হয় তখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ পরের ৭০ বলে ৭৫ রান। এই সমীকরণটাই মেলাতে পারল না বাংলাদেশ। চাপের মুখে রান তাড়ায় একে একে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন সবাই। বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যান বোল্ড হননি, একজন রানআউট। বাকি সবাই ক্যাচ দিয়েছেন, শুধু রিফাতই উইকেটরক্ষকের হাতে আর বাকিরা সবাই উড়িয়ে মারতে গিয়ে। ভিজে মাঠে ভেজা বলে স্পিনাররা বলের ফ্লাইট দিয়েছেন আর গতি কমিয়ে দিয়েছেন। তাতেই ধরা খেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা, যেমন তামিম আউট হলেন ফুলটস বলে। ক্যাচিংও ভাল করেছে ভারত। সামিউন বাশিরের যে ক্যাচটা ডলি করে বাউন্ডারিতে নিলেন সূর্যবংশী কিংবা শেষ উইকেটের পতনে ভিহান মালহোত্রা যে ক্যাচটা নিলেন, অমন ক্যাচ বিপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও নিতে দেখা যায় না। ম্যাচশেষের ৩ বল আগে ১৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, হার ১৮ রানে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ২০ জানুয়ারি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
