প্রেমের জন্য কোনো সীমানা নেই, কোনো দেয়ালও নেই। এমনকি জেলখানার চার দেয়ালও সেই প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। রাজস্থানের আলওয়ারে ঘটেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন দুজন দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি-একজনের হাতে ডেটিং অ্যাপে পরিচিত যুবক হত্যার দাগ, অন্যজন একই রাতে পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডিত। রাজস্থান হাইকোর্ট এই অস্বাভাবিক জুটিকে বিয়ে করার অনুমতি দিয়ে ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছেন। কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বর হনুমান প্রসাদ গতকাল শুক্রবার আলওয়ারের বারোদামেভে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের এমন বিয়ে নিয়ে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
মডেল হিসেবে পরিচিত প্রিয়া শেঠের অপরাধের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়ংকর। ২০১৮ সালের মে মাসে টিন্ডার অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়। প্রিয়া ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক মিলে দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি দাবি করেন। পরিবার ৩ লাখ রুপি দিলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে প্রিয়া ও তাঁর সহযোগীরা দুষ্যন্তকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। পরিচয় গোপন করতে তাঁর মুখে অসংখ্য ছুরিকাঘাত করা হয় এবং মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই মামলায় প্রিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন।
অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদের অপরাধ আরও ভয়াবহ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা সন্তোষের প্ররোচনায় তাঁর স্বামী ও সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করেন হনুমান। প্রেমিকা সন্তোষের স্বামী বনওয়ারী লালকে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে হত্যার পর, ঘুমন্ত তিন সন্তান এবং এক ভাতিজাও জেগে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী সরিয়ে দিতে হনুমান সেই রাতেই চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড।
প্রায় ছয় মাস আগে সাঙ্গানের ওপেন জেলেই প্রথম দেখা হয় প্রিয়া ও হনুমানের। সেখান থেকেই আলাপ এবং পরবর্তীতে প্রেমের শুরু। দুজনেই দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। আদালত তাঁদের আবেদন গ্রহণ করে বিয়ের জন্য ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে। আইন ও অপরাধের বেড়াজালে ঘেরা এই বিয়ে এখন রাজস্থানের প্রধান আলোচনার বিষয়।
