দুমকিতে সমন্বিত সবজি চাষে সফল শিক্ষার্থী মাঈনুল ইসলাম

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৯ এএম

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাঈনুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি সমন্বিত মাছের চাষ ও সবজি বাগান গড়ে তুলে সফল উদ্যোক্তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আ. ছালাম মৃধার ছেলে মাঈনুল ইসলাম তার পৈত্রিক ৩৩ শতক অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে তিনি এ উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত মাছ ও সবজি স্থানীয় বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতাও বেড়েছে।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে বাড়ির আঙ্গিনায় অব্যবহৃত জমিতে মাটি কেটে চারদিকে মাদা তৈরি করে একটি ছোট লেকের আদলে জায়গাটি প্রস্তুত করেন মাঈনুল। সেই লেকের পানিতে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন কার্প জাতের মাছের চাষ শুরু করেন। একই সঙ্গে লেকের চারপাশের উঁচু মাদায় শাকসবজি আবাদ করেন। বর্তমানে সেখানে বেগুন, মরিচ, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়স, টমেটোসহ মৌসুমি নানা জাতের সবজি চাষ হচ্ছে।

মাঈনুল ইসলাম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সময়কে কাজে লাগাতে এবং নিজের খরচ নিজেই বহন করার লক্ষ্য থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নেন। শুরুতে পারিবারিক সহযোগিতা ও নিজস্ব সঞ্চয় দিয়ে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে খাবার ও সার প্রয়োগের ফলে মাছ ও সবজির ফলন ভালো হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

স্থানীয়রা জানান, আগে জমিটি দীর্ঘদিন পতিত পড়ে ছিল। মাঈনুলের উদ্যোগে এখন সেখানে সবুজে ঘেরা একটি সমন্বিত খামার গড়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন মাছ ও সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার তরুণদের মাঝেও উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়নের আ. ছালাম মৃধা, আবুল কালাম খান, আলম খানসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, মাঈনুলের এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতি কম খরচে বেশি লাভের একটি উদাহরণ। চাইলে অন্যরাও এভাবে পতিত জমি কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন জানান, সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষ একটি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। তরুণ শিক্ষার্থীরা যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তবে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। তারা মাঈনুলের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত