তারেক জ্বরে কাঁপছে দেশ তা দেখে দুর্নীতিবাজ অপরিপক্ক নবীন নামধারী নেতারা ঈর্ষায় শেষ উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমানের মহাপরিকল্পনায় জনগণ নতুন করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছে। দীর্ঘদিনের হতাশা, দমন-পীড়ন আর অধিকারহীন অন্ধকার ভেদ করে মানুষ আজ জেগে উঠেছে। সারা দেশে জনতার সাগরে ঢেউ লেগেছে, সেই ঢেউ খেলছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। এই জনস্রোত কোনো কৃত্রিম আয়োজন নয়—এটি জনগণের বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ, আশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ।
তিনি বলেন, এই কারণেই আজ অন্য দলগুলো জনগণের কাছে কোনো গুরুত্বই পাচ্ছে না। কারণ দেশ ও জাতিকে দেওয়ার মতো তাদের কোনো ভিশন নেই, কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নেই। তারা শুধু ক্ষমতার হিসাব বোঝে, জনগণের জীবনের হিসাব বোঝে না।
তিনি আজ সন্ধ্যায় ধোবাউড়ার গোয়াতলা ইউনিয়নে রঘুরামপুর, অয়লাতলী বাজার এবং সদর ইউনুয়নের তারাইকান্দি গ্রামে উঠান বৈঠক ও পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান যখন কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের মতো যুগান্তকারী জনবান্ধব কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন, তখনই তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। জনগণের কল্যাণে নেওয়া এসব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করতে তারা মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন , ‘আমরা ভুলে যাইনি গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার নামে যারা জনগণের সহানুভূতি আদায় করেছিল, তারা পরবর্তীতে সরকারের উপদেষ্টা হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে নিজেদের নির্বাচন নিশ্চিত করা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএনপি ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে যারা বিএনপির পেছনে ঘুরেও দলে যোগ দিতে পারেনি, তাদের সেই নির্বাচন করার খায়েশ এখানেই শেষ হয়ে গেছে। একবার এনসিপি, একবার স্বতন্ত্র, আবার বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে ঘুরেছে। বিএনপির নেতাদের বাসায় বাসায় ধরণা দিয়েও বিএনপি এই লোকের দুর্নীতি, অপকমের্র কারণে তাকে যখন নেয় নাই, তখন নির্বাচন করার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করে আবার নিজেদের পুরোনো গুপ্ত দলে ফিরে গিয়ে আজ তারেক রহমান ও তার জনবান্ধব কর্মসূচির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, এই অপপ্রচারই প্রমাণ করে তারেক রহমান সঠিক পথেই আছেন। কারণ ইতিহাস বলে, যখন কেউ জনগণের পক্ষে দাঁড়ায়, তখন অপশক্তি মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন আত্মমর্যাদা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন আপসহীন নেতৃত্ব। আর তারেক রহমান আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন আগামীর বাংলাদেশ—একটি রেইনবো নেশন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে।
তিনি সকলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্ববান জানান ।
এছাড়াও তিনি আজ ভোরে ধোবাউড়ায় “লেটস রান অ্যান্ড টি উইথ প্রিন্স” নামক এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড় ও সমাজকর্মীদের সাথে ব্যতিক্রমধর্মী মিনি ম্যারাথন ও চা-চক্রে মিলিত হন ।
এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি তারুণ্যের শক্তি, মেধা ও সাহসকে কাজে লাগিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও অনৈতিকতামুক্ত ধোবাউড়া গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে কলসিন্দুর এলাকায় একটি ক্রীড়া শিক্ষা একাডেমি অথবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বছরব্যাপী ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে ধোবাউড়ায় প্রাণের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যোগ করেন এমরান সালেহ প্রিন্স।
তারেক রহমান, এমরান সালেহ প্রিন্স, ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত জার্সি পরে মিনি ম্যারাথনে অংশগ্রহনকারীরা ‘আমার আগে অমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ ‘তরুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’সহ
পরে মিনি ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী তরুণ খেলোয়াড় ও সমাজকর্মীরা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সঙ্গে এক চা-চক্রে মিলিত হন। এ সময় তারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং এমরান সালেহ প্রিন্স তাদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন।
