ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন হামলার জবাব দিতে ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান।দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরানি বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে। খবর এএফপি।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইস্যুতে সংঘাত এড়ানোর সুযোগ দ্রুত কমে আসছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় বহর ইতোমধ্যে ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ও শক্তিশালী অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, ‘ইরান আলোচনার বিপক্ষে নয়, তবে কোনো চুক্তি চাপ, হুমকি বা ভয় দেখিয়ে চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণ করা হবে না। ইরান এমন চুক্তিই চায়, যেখানে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার নিশ্চয়তা থাকবে।’

আরাগচি আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নীতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান নেই এবং দেশটি কখনোই এসব অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র গবেষণা ও বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সীমিত হামলার ধারণা একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে দেখা হবে। এর জবাব হবে তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও নজিরবিহীন। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্য হিসেবে তিনি তেল আবিবের কেন্দ্র এবং আগ্রাসনকারীদের সমর্থকদের কথা উল্লেখ করেন।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশও। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস মন্তব্য করেছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের পর ইরান কঠিন সময়ের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিতে।

ইতোমধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য এখনো সে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত