ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা, উত্তেজনা চরমে!

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

ওয়াশিংটন-তেহরানের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মার্কিন হুমকিতে ইরানি জাতি ভীত হবে না। উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেও আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। অঞ্চলটিতে এখন ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ মোতায়েন করা হয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও বিক্ষোভ দমনে হস্তক্ষেপ না করলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই বলেন তিনি জাহাজ পাঠিয়েছেন। ইরানি জাতি এসব দেখে ভীত হবে না, এসব হুমকিতে ইরানি জনগণ বিচলিত হবে না। আমরা কোনো দেশের ওপর হামলার উদ্যোগ নিই না এবং চাইও না। কিন্তু কেউ যদি ইরানি জাতির ওপর হামলা বা হয়রানি চালায়, তাহলে ইরানি জনগণ তার জবাব কঠোরভাবে দেবে।

এদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, বড় ধরনের সংঘাত হলে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি মিশরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং কোনোভাবেই চায় না।

ট্রাম্পও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চলছে। তবে তিনি হামলার হুমকিও জারি রেখেছেন। এ অবস্থায় উত্তেজনা কমানোর প্রয়াসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি গতকাল ইরানে গিয়ে আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মার্কিন নৌবহর আসার পর থেকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জাহাজ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেছেন, তার বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক প্রস্তুতিতে’ রয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিশ্বজ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনের নৌ মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ সময় ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ না করার জন্য আইআরজিসিকে সতর্ক করেছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় লক্ষ্যভেদ অনুশীলন করবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ২০১৯ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই সিদ্ধান্ত নেয়, যার বিরুদ্ধে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত