ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শাহবাজ শরিফকে ১৪ সাবেক অধিনায়কের চিঠি

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

কারাবন্দী ইমরান খানের জন্য অতি সত্বর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে তার প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের অনুরোধ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়করা। খেলোয়াড়ী জীবনে ইমরান যাদের ছিলেন প্রতিপক্ষ; সেই সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব থেকে শুরু করে ক্লাইভ লয়েড, ডেভিড গাওয়ার, মাইকেল আথারটনরা সাক্ষর করেছেন সেই চিঠিতে।

পাকিস্তানের ১৯৯২’র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকেই অন্তরীণ। তাকে রাখা হয়েছে রাওয়ালপিন্ডির একটি উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের জন্য নির্ধারিত কারাগারে। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে জেমাইমা গোল্ডস্মিথের গর্ভে জন্ম নেয়া ইমরানের দুই পুত্র সুলেমান ইসা খান ও কাসিম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তারা খুব সম্ভবত তাদের বাবাকে আর জীবিত দেখতে পাবে না। ইমরানের বোন তার সঙ্গে দেখা করার পর বলেছিলেন ইমরানের দৃষ্টিশক্তি কমে এসেছে, জানা গেছে তার ডান চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে ১৫%তে নেমে এসেছে। এমন অবস্থায় তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক। তাদের সম্মিলিত চিঠির বক্তব্যটি নিম্নরূপ, 

‘ইমরানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো—বিশেষ করে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার দৃষ্টিশক্তির আশঙ্কাজনক অবনতি—এবং গত আড়াই বছর ধরে তার কারাবাসের পরিবেশ আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ক্রিকেটে ইমরান খানের অবদান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে জয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন—যা ছিল দক্ষতা, সহনশীলতা, নেতৃত্ব এবং খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের এক অনন্য বিজয়, যা সীমানা ছাড়িয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই তার বিরুদ্ধে খেলেছেন, তার সাথে মাঠ ভাগ করে নিয়েছেন অথবা তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য, কারিশমা এবং হার না মানা মানসিকতাকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছেন। তিনি আজ অবধি ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়, ভক্ত ও সংগঠক—সবার শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন।

ক্রিকেটের বাইরেও ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা-ই হোক না কেন, তিনি তার দেশের সর্বোচ্চ পদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
আমরা পাকিস্তান সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যেন ইমরান খান তার জানানো স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য তার পছন্দমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসা পান; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তার কারাবাসের পরিবেশ যেন মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়; পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয় এবং কোনো প্রকার অযৌক্তিক বিলম্ব বা বাধা ছাড়াই যেন তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও ন্যায্য অধিকার পান।'  

এই চিঠিতে সাক্ষর করেছেন- সুনীল গাভাস্কার, ক্লাইভ লয়েড, ইয়ান চ্যাপেল, কপিল দেব, অ্যালান বোর্ডার, মাইক আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইক ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজ ও বেলিন্ডা ক্লার্ক।

ইমরানের কারাবাস, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীদের মত ডেথ সেলে রাখা সহ তার প্রতি পাকিস্তান সরকারের বিরূপ আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত