যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় আনন্দে ভাসছে তার নিজ জেলা যশোর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নেতাকর্মীরা জড়ো হন শহরের লাল দীঘির দলীয় কার্যালয় চত্বরে। সেখানে নেতাকর্মীরা সেøাগানের সঙ্গে একে অন্যকে রঙ দিয়ে রাঙিয়ে তোলেন। পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
পরে বিকেল ৫টায় জেলা বিএনপির ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে দড়াটনা, মুজিব সড়ক, জর্জ কোর্ট মোড় ও মাইকপট্টি হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা নতুন প্রতিমন্ত্রীর নামে বিভিন্ন সেøাগান দেন। পরে নতুন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এ গুরুদায়িত্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে যেমন আরও শানিত করবে, তেমনি যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের গতি পাবে। তারা এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পিতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলাম চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাবার পথ ধরেই এবার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন অমিত। তার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় যশোর জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখেন অনিন্দ্য ইসলাম। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন তিনি। যার ফলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
অনিন্দ্য ইসলাম এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তৎকালীন সরকার তার ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালায় এবং বিজয় ছিনিয়ে নেয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অনিন্দ্য। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পান।
অমিত ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মা নার্গিস বেগম বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি যশোর জেলা বিএনপির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে ১৯৯৬ সালে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি টিভি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অনিন্দ্য ইসলাম ল্যাবস্কান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি যশোর মেডিসিন ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, প্রেস ক্লাব যশোর, যশোর চেম্বার অব কমার্স, যশোর ক্লাব, ঝিনাইদহ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গ্র্যাজুয়েট বায়োকেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বায়োকেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
